প্রধান শিক্ষক
২৪ মার্চ, ২০২৬ ০৭:২৬ অপরাহ্ণ
শাওয়ালের ছয় রোজা: এক বছর ইবাদতের সওয়াব পাওয়ার আমল ও সঠিক নিয়ম
শাওয়ালের ছয় রোজা: এক বছর ইবাদতের সওয়াব পাওয়ার আমল ও সঠিক নিয়ম
পবিত্র ঈদুল ফিতরের (Eid-ul-Fitr 2026) আনন্দ উদযাপনের পরপরই শুরু হয় শাওয়াল মাসের ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। রমজানের এক মাস রোজা রাখার পর শাওয়াল মাসে অতিরিক্ত ছয়টি রোজা (Six fasts of Shawwal) রাখা সুন্নাহ। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, এই ছয়টি রোজা রাখার মাধ্যমে একজন মুমিন পুরো বছর রোজা রাখার সওয়াব (Reward of fasting for the whole year) লাভ করতে পারেন।
শাওয়ালের ৬ রোজার গাইডলাইন
| বিষয় (Topic) | বিবরণ (Description) |
|---|---|
| শুরু করার সময় | ঈদের পরের দিন (২ শাওয়াল) থেকে রাখা যাবে। |
| শেষ সময় | শাওয়াল মাসের ২৯ বা ৩০ তারিখ পর্যন্ত। |
| ধরন | এটি একটি নফল বা সুন্নাহ আমল। |
শাওয়ালের ছয় রোজার ফজিলত (Virtues of Six Fasts)
রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, "যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, এরপর শাওয়ালে আরও ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারা বছরই রোজা রাখল।" (সহিহ মুসলিম: ১১৬৪)।
পবিত্র কোরআনের সুরা আন-আমে (Surah Al-An'am: 160) আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে, যেকোনো নেক আমল করলে তার ১০ গুণ সওয়াব দেওয়া হয়। সেই হিসেবে রমজানের ৩০টি রোজার বদলে ৩০০ দিন এবং শাওয়ালের ৬টি রোজার বদলে ৬০ দিন—মোট ৩৬০ দিন বা পূর্ণ এক বছরের সওয়াব পাওয়া সম্ভব।
শাওয়ালের রোজার নিয়তের সঠিক সময় (Timing of Niyyat)
শাওয়ালের নফল বা সুন্নাহ রোজার ফজিলত পেতে হলে নিয়তের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রমজানের ফরজ রোজার নিয়ত দিনের অর্ধেক সময় পর্যন্ত করা গেলেও, শাওয়ালের রোজার নিয়ত সুবহে সাদিকের আগেই (Before Fajr/Subhe Sadiq) করতে হয়।
তবে যদি কেউ আগের রাতেই মনে মনে স্থির করে রাখেন যে তিনি আগামীকাল রোজা রাখবেন, তবে সাহরির সময় (Sahri time) উঠতে না পারলেও দিনের বেলা রোজা রাখলে তা আদায় হয়ে যাবে। সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার পর নতুন করে নফল রোজার নিয়ত করলে তা বিশুদ্ধ হবে না।
কবে থেকে শুরু করা যাবে? (When to start?)
ইসলামিক শরিয়ত অনুযায়ী, বছরে মাত্র ৫ দিন রোজা রাখা হারাম বা নিষিদ্ধ (Forbidden days for fasting)। এর মধ্যে ঈদুল ফিতরের দিন (১ শাওয়াল) একটি। সুতরাং, ঈদের পরের দিন অর্থাৎ ২ শাওয়াল থেকেই এই রোজা রাখা শুরু করা যায়। অনেকে মনে করেন ঈদের পর ৩ দিন রোজা রাখা যায় না, যা একটি ভুল ধারণা। ঈদের পরদিন থেকেই রমজানের কাজা রোজা (Qaza fasts of Ramadan) বা শাওয়ালের নফল রোজা রাখা বৈধ।
রোজা রাখার নিয়ম: একনাগাড়ে না কি বিরতি দিয়ে? (Rules of fasting)
শাওয়ালের ছয় রোজা রাখার ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই।
একনাগাড়ে: কেউ চাইলে মাসের শুরুতে টানা ছয় দিন (Consecutive six days) এই রোজা রাখতে পারেন।
বিরতি দিয়ে: কেউ চাইলে পুরো মাস জুড়ে বিরতি দিয়ে দিয়ে (Fasting with intervals) এই রোজা সম্পন্ন করতে পারেন।
সুন্নতি দিন: প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার (Fasting on Monday and Thursday) সুন্নতি রোজার সাথে মিলিয়ে রাখলে ৩ সপ্তাহেই সহজে ছয়টি রোজা পূর্ণ হয়ে যায়।
সময়সীমা (Deadline for Shawwal Fasting)
এই সওয়াব হাসিল করার জন্য হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শাওয়াল মাস শেষ হওয়ার আগেই ছয়টি রোজা পূর্ণ করতে হবে। ২০২৬ সালে শাওয়াল মাস শেষ হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ অনুযায়ী এপ্রিলের মধ্যেই এই আমলটি সম্পন্ন করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
কাজা রোজা ও শাওয়ালের রোজা কি একসাথে রাখা যাবে? (Combining Qaza and Shawwal fasts)
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, একটি রোজার মাধ্যমে কি কাজা ও শাওয়াল উভয় সওয়াব পাওয়া সম্ভব? ইসলামিক স্কলারদের মতে, শাওয়ালের রোজা ও রমজানের কাজা রোজা একসাথে রাখার সুযোগ নেই (Cannot combine Qaza and Shawwal fasts)।
- আগে কাজা আদায়: কারো ওপর রমজানের কাজা থাকলে তা আগে আদায় করা উত্তম, কারণ ফরজ আমল নফলের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
- পৃথক সওয়াব: শাওয়ালের পূর্ণ সওয়াব (Full reward of year-long fasting) পেতে হলে কাজা রোজা শেষ করে পৃথকভাবে ছয়টি রোজা রাখতে হবে। একটি নিয়তে দুটি রোজা আদায় হবে না।
৫
৫ মন্তব্য