সহকারী শিক্ষক
২২ মার্চ, ২০২৬ ০৯:০৯ অপরাহ্ণ
লবণের পরিমাণের ভুলে ঘটতে পারে মৃত্যুও
খাবারের সময় পাশে লবণদানিটা না থাকলে অনেকেরই যেন ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া হয় না। কিন্তু অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার এই অভ্যাস মোটেও ভালো কিছু নয়, অন্তত বিজ্ঞান তা-ই বলছে।
বিশ্বজুড়ে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস জনস্বাস্থ্যের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাকৃতিক খাবারের ওপর মানুষের নির্ভরতা কমেছে, পাল্লা দিয়ে বেড়েছে প্রক্রিয়াজাত খাবারের চাহিদা। কৃত্রিম উপায়ে তৈরি এসব খাবার গ্রহণের ফলে মানুষের দেহে এমন কিছু উপাদান ঢুকে পড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হচ্ছে। বিশেষ করে সোডিয়াম লবণ, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর তেল-চর্বি গ্রহণের প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এর বিপরীতে মানুষ এখন শস্য, ডাল, শাকসবজি ও ফলমূল খাচ্ছে অনেক কম। পরিবর্তিত এই খাদ্যাভ্যাস ধীরে ধীরে হৃদ্রোগ, স্ট্রোক ও কিডনি রোগের মতো বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
লবণের পেছনের রসায়ন
অনেকেই জিজ্ঞেস করেন, সোডিয়াম ও ক্লোরিন মৌল দুটি একা একা বেশ সক্রিয় ও বিষাক্ত হলেও এদের সমন্বয়ে গঠিত লবণ কীভাবে এত স্বাভাবিক ও নিরপেক্ষ হয়? সোডিয়াম মৌল হিসেবে একা থাকলে খুব প্রতিক্রিয়াশীল একটি ধাতু, যা পানিতে লাগলেই বিস্ফোরণ ঘটায় এবং চামড়া পুড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে ক্লোরিনও একক মৌল হিসেবে একটি বিষাক্ত গ্যাস, যা নিশ্বাসের সঙ্গে নিলে ফুসফুস পুড়িয়ে মারাত্মক ক্ষতি করে।কিন্তু এদের রাসায়নিক বন্ধনে গড়ে ওঠে নিরপেক্ষ খাবার লবণ বা সোডিয়াম ক্লোরাইড। সোডিয়াম তার শেষ স্তরের একটি ইলেকট্রন ক্লোরিনকে দিয়ে দেয়। একটি ইলেকট্রন দিয়ে দেওয়ায় সোডিয়াম পরিণত হয় ধনাত্মক আয়নের ক্যাটায়নে (Na⁺)। সেই ইলেকট্রন গ্রহণের ফলে ক্লোরিন পরিণত হয় ঋণাত্মক আয়নের অ্যানায়নে (Cl⁻)। এই দুই বিপরীত আয়নের বন্ধনেই গড়ে ওঠে সোডিয়াম ক্লোরাইড। এটি স্থিতিশীল ও নিরপেক্ষ হওয়ার কারণে কোনো বিপজ্জনক বিক্রিয়া দেখায় না বা বিষাক্ত আচরণ করে না। উল্টো এটি খুব সুন্দর একটি ক্রিস্টাল বা স্ফটিক গঠনের অধিকারী একটি যৌগ।
৫
৫ মন্তব্য