সহকারী শিক্ষক
১৮ মার্চ, ২০২৬ ০২:২০ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
বর্তমান বিশ্ব ডিজিটাল কার্য নির্ভর বিশ্বে পরিনত হওয়ায় শিক্ষা ক্ষেত্রেও এর প্রভাবে প্রভাবিত হওয়াটা খুবই প্রাসঙ্গিক।
এরই ধারাবাহিকতার পথপ্রদর্শক হিসেবে এগিয়ে চলেছে আমাদের শিক্ষক বাতায়ন প্লাটফর্মটি।বর্ত্মানে এই ডিজিটাল প্লাটফর্মটির সদস্য সংখ্যা ৬৭২১৮৯,প্রেজেন্টেশন ২৩৩৬৩ টি,ভিডিও কনটেন্ট ১০৫৬৯৭ টি এবং জেলা এম্বাসেডর শিক্ষক ২৬৭৪ জন।দেখেই বোঝা যাচ্ছে এই প্লাটফর্মটি কতটা শিক্ষক বন্ধব এবং শিক্ষকদের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা কতখানি।
আমি আইসিটি প্রশিকক্ষণ গ্রহণ করার আগে থেকেই ডিজিটাল কন্টেন্ট নিয়ে খুবই আগ্রহী ছিলাম।শিক্ষকতা পেশায় আসার আগেই ২০১২ সালের দিকে আমি প্রথম ডিজিটাল কনটেন্ট সম্পর্কে ধারণা পেয়েছিলাম।সেটি শুধু মাত্র প্রাথমিক ধারণা।
পরবর্তী শিক্ষতা পেশায় এসে শ্রেণিপাঠাদানে আমি ডিজিটাল কন্টেন্ট এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে শুরু করি।কিন্ত কিছুতেই অনেক সময় এবং পরিশ্রম করেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছিলাম না।অনেক সহকারী এবং আশেপাশের মানুষ প্রায়ই বলত এসব করে আসলে কী লাভ?কোনভাবেই আমি আমার সঠিক দিক নির্দেশনা খুজে পাচ্ছিলাম না।আশায় ছিলাম ভালো একটা শুরুর জন্য।কারণ আমি জানতাম আইসিটি বিষয়টিতে দক্ষতা অর্জন অপরিহার্য।কোন কিছুতেই আমি থেকে যায়নি।চেষ্টা অব্যাহত ছিল সব সময়।কিন্তু সঠিক ধারণা না থাকায় অধিক পরিশ্রম এবং সময় ব্যয় করার পরেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য যখন ধরা ছোয়ার বাইরে চলে যাচ্ছিল ঠিক তখনই আল্লাহর অশেষ রহমতে সুযোগ হল কমলাপুর পিটিআই, চুয়াডাঙ্গাতে ১৪ দিনের আইসিটি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করার।
জানা হল অজানা অনেক কৌশল যা আমার কাজকে অনেক সহজ এবং কম সময় সাপেক্ষ।আমি খুবই কম সময়ে অনেক ভালো মানের ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরিতে এগিয়ে গেলাম অনেকটা পথ।আয়ত্ত করলাম পাওয়ায় পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের প্রয়োজনীয় কৌশল গুলো যা কনটেন্ট তৈরির জন্য খুবই দরকারী।এর মধ্য অন্যতম ছিল এনিমেশন। যা আমাদের কনটেন্টকে অভাবনীয় সফলতা এনে দিতে পারে।দরকার শুধু সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারা।উল্লেখ্য প্রশিক্ষণের আগেই আমি এমএস ওয়ার্ড, এমএস এক্সেক্স,এমএস এক্সেল,ইন্টারনেট ব্রাউজিংসহ আরও কিছু দরকারি ব্যবহার শিখতে পেরেছিলাম কম্পিউটার বিষয়ক ৬ মাস মেয়াদি বেসিক কোর্স মাধ্যমে। যেটা আমার কাজকে অনেক সহজ করে দিয়েছিল।
যাইহোক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।আর তা করতে সব থেকে ভালো কৌশল হল চর্চার মধ্যে থাকা।আমরা প্রশিক্ষণে শুধু মৌলিক বিষয়গুলো শিখে আসি।এক্ষেত্রে নিয়মিত চর্চা করলে অনেক সৃজনশীল কাজ নিজ থেকে করতে পারা অসম্ভব তো নয়ই বরং খুবই সহজ আর আনন্দদায়ক । আমাদের যে কাজটি করতে হবে তা হল যতটুকু আমরা শিখব বিভিন্ন প্রশিক্ষণ বা অন্য কোন উপায়ে (ইউটিউব) সেগুলো নিয়মিত চর্চা করতেই হবে।এর কোন বিকল্প হতেই পারে না।তবেই ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরিতে সফলতা আসবে।
আমি ২০১৯ আইসিটি প্রশিক্ষণের শেষের দিকে পরিচিত হলাম শিক্ষক বাতায়নের সাথে।আমার সামনে উন্মুক্ত হল সফলতার এক বিশাল দার।সম্ভাবনার এক অপরিসীম ভান্ডার।হাজার হাজার কনটেন্ট চাইলেই হাতে পাওয়া যাবে এমন বিষয় জানার পর মনে হল যেন সবই পেয়ে গেছি হাতের মুঠোও।জানলাম এখনা থেকে খুব সহজে যে কোন বিষয়ের কনটেন্ট ডাউনলোড করে সেটি আমি আমার ইচ্ছে মত পরিবর্তন ক্ক্রে শ্রেণিপাঠদানে ব্যবহার করতে পারব।খুবই আনন্দের একটি বিষয়। যা আমার অনেক শ্রম এবং সময় বাচাতে সক্ষম।
পরবর্তীতে সদস্য হলাম।পরিশ্রম করতে থাকলাম।এরপর শিক্ষক বাতায়নের শর্তগুলো (জেলা শিক্ষক অ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত হওয়ার শর্ত) পূরণ করতে শুরু করলাম।কঠোর পরিশ্রম করতে শুরু করলাম।আর শর্তগুলো পূরণের দিকে একটু একটু করে এগিয়ে যেতে শুরু করলাম।অবশেষে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসের শুরুর দিকে শর্তগুলো পূরণ হল।যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করে আবেদন করলাম। প্রায় ১০ মাস পর আমি ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে নির্বাচিত হলাম জেলা এম্বাসেডর শিক্ষক।স্বীকৃতি পেলাম শত চেষ্টা আর নিরলস পরিশ্রমের। সে এক অন্য রকমের অভিজ্ঞতা। বলে বোঝানো যাবে না।
সহকর্মীরা তো বটেই সাথে আশেপাশের সবাই অভিনন্দন জানাতে শুরু করলো।আস্তে আস্তে আগ্রহ দেখাতে শুরু করলো আইসিটি বিষয়টিতে।
কিন্তু এই পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না।শত প্রতিবন্ধকতা ছিল পদে পদে।কিন্তু আমি কোন কিছুতেই কান না দিয়ে উদ্ভুত সমস্যা কীভাবে সমাধান করা যায় সেই পথ খুজে বের করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতাম।ধৈর্য, চেষ্টা আর পরিশ্রমই সফলতার দিকে নিয়ে গেছিল ধীরে ধীরে।যার চুড়ান্ত স্বীকৃতি মেলে জেলা শিক্ষক এম্বাসাডর নির্বাচিত হবার পরে।এরপর ২০২৪ সালে ফেব্রুয়ারিতে a2i এর একটি কর্মশালায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ হয়েছিল।যা আমার কাজের আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আইসিটি বিষয়ক বিভিন্ন সমস্যায় (উপবৃত্তি,অনলাইনে শিক্ষক বদলি,IPEMIS ইত্যাদি ) সহায়তা করার জন্য স্বেচ্ছাসেবী ফেসবুক পেইজের ( Helping page on e-Monitoring ফেসবুক পেইজের মডারেটর) মাধ্যমেও উপজেলা এবং জেলার সীমানা পেরিয়ে সারা দেশের শিক্ষকদের সহজে সমাধান যোগ্য ছোটখাটো বিভিন্ন সমস্যা সমাধান দেওয়ার পাশাপাশি শ্রেণিপাঠদানে ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি অব্যাহত রেখেছি এবং রাখব ইনশাআল্লাহ।
আসার কথা হল এখন আমার সফলতা অনেক তরুন এবং অভিজ্ঞ শিক্ষককেরাও ডিজিটাল কন্টেন্ট এবং শিক্ষক বাতায়ন প্লাটফর্মের প্রতি আগ্রহী করে তুলছে।পাঠ দানে আগ্রহ দেখাচ্ছে আইসিটির ব্যবহারে। আশা করছি দ্রতই আরও বেগবান হবে শিক্ষা ক্ষেত্রে আইসিটির ব্যবহার।পরিবর্তন আসবে আইসিটির হাত ধরেই ইনশাআল্লাহ। আসুন,আমরা আইসিটিতে দক্ষ হই এবং আমাদের দেশকে এগিয়ে নিই। আমার মত আপনিও আগামীতে আপনার সফলতার গল্প লিখুন।
সবাইকে শিক্ষক বাতায়ন প্লাটফর্মের মাধ্যমে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি,আমি,
মোঃ শাখাওয়াৎ হোসেন
সহকারী শিক্ষক
বড় গাংনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,
আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা।
(জেলা এম্বাসেডর শিক্ষক, চুয়াডাঙ্গা জেলা)
৩
৫ মন্তব্য