Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৮ মার্চ, ২০২৬ ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ

দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার আবার বেড়েছে

দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার আবার বেড়েছে। অর্থনৈতিক চাপ ও সামাজিক বাস্তবতার কারণে অনেক শিশু স্কুল ছেড়ে শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) করা নতুন গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংলাপে ‘নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে আগামী দিনের শিক্ষা খাত: নতুন চিন্তা, নতুন কাঠামো ও নতুন পদক্ষেপ’ শীর্ষক এই গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়।
গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান। গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের তুলনায় ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রাথমিক স্তরে এই কমার হার ছিল ৭ শতাংশ। আর ২০১৯ থেকে ২০২২ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী ভর্তি কমেছে ২১ দশমিক ৫ শতাংশ।
আর্থিক চাপে দেশে শিশুশ্রম বৃদ্ধি পাওয়ায় ছেলেদের মধ্যে ঝরে পড়ার হার বেশি। শিশুশ্রমের কারণে বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার হার বেড়ে ৯ দশমিক ২ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। দেশে বাল্যবিবাহের কারণে মেয়েদের ঝরে পড়ার হারও বাড়ছে। বর্তমানে এই হার ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ।
সংলাপে সভাপতিত্ব করেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর নতুন বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজন। বিশেষত সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার আনতে ধাপে ধাপে পাইলট প্রকল্প চালু করে পরে জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষা খাতে যেকোনো সংস্কার বাস্তবায়নের আগে সরকার সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করবে। এরপর পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট) কিছু উদ্যোগ চালু করা হবে এবং সফল হলে তা জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি কোচিং নিয়ন্ত্রণে আগামী ছয় মাসের মধ্যে কয়েকটি পাইলট প্রকল্প শুরু করার কথা জানান। পরিকল্পনা সফল হলে সরকার আগামী তিন বছরের মধ্যে কোচিং–নির্ভরতা কমিয়ে আনবে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ