সহকারী অধ্যাপক
১৬ মার্চ, ২০২৬ ০৪:২৯ অপরাহ্ণ
জান্নাত ও জাহান্নামের বিতর্ক যা নিয়ে
জান্নাত ও জাহান্নামের বিতর্ক যা নিয়ে
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রযি. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, জান্নাত ও জাহান্নাম পরস্পর বিতর্কে লিপ্ত হল । জাহান্নাম বলল, আমার মধ্যে আছে যত প্রচণ্ড শক্তিধর ও অহংকারী লোক। জান্নাত বলল, আমার মধ্যে আছে এমনসব লোক যারা মানুষের মধ্যে দুর্বল ও গরীব। আল্লাহ তা'আলা তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিলেন যে, (হে জান্নাত!) তুমি হলে আমার রহমত। তোমার দ্বারা আমি যার প্রতি ইচ্ছা রহম করি। আর (হে জাহান্নাম!) তুমি হলে আমার আযাব। আমি তোমার দ্বারা যাকে ইচ্ছা আযাব দেই। আমারই যিম্মায় তোমাদের প্রত্যেককে পরিপূর্ণ করে দেওয়া –মুসলিম।
সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ২৮৪৬; সহীহ বুখারী, হাদীছ নং ৪৮৫০; জামে তিরমিযী, হাদীছ নং ২৫৬১; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীছ নং ৭৪৭৭; মুসনাদে আহমাদ, হাদীছ নং ৭৭১৮, আল–আদাবুল মুফরাদ, হাদীছ নং ৫৫৪; মুসনাদুল হুমাইদী, হাদীছ নং ১১৭১; বাগাবী, শারহুস–সুন্নাহ, হাদীছ নং ৪৪২২; মুসনাদ আবূ ইয়ালা, হাদীছ নং ৬২৯০
32 – باب فضل ضعفة المسلمين والفقراء والخاملين
254 – وعن أَبي سعيد الخدري – رضي الله عنه – عن النَّبيّ – صلى الله عليه وسلم – قَالَ: «احْتَجَّتِ الجَنَّةُ والنَّارُ، فقالتِ النَّارُ: فِيَّ الجَبَّارُونَ وَالمُتَكَبِّرُونَ. وَقَالتِ الجَنَّةُ: فِيَّ ضُعَفَاءُ النَّاسِ وَمَسَاكِينُهُمْ، فَقَضَى اللهُ بَيْنَهُمَا: إنَّكِ الجَنَّةُ رَحْمَتِي أرْحَمُ بِكِ مَنْ أشَاءُ، وَإنَّكِ النَّارُ عَذَابِي أُعَذِّبُ بِكِ مَنْ أشَاءُ، وَلِكلَيْكُمَا عَلَيَّ مِلْؤُهَا». رواه مسلم. (1)
পরিচ্ছেদঃ অহংকার প্রদর্শন ও গর্ববোধ করা অবৈধ
(২১৭১) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাত এবং জাহান্নাম পরস্পরের মধ্যে ঝগড়া করল। জাহান্নাম বলল, ’আমার মধ্যে বড় বড় উদ্ধত এবং অহংকারীরা বসবাস করবে।’ আর জান্নাত বলল, ’আমার মধ্যে দুর্বল এবং মিসকীনরা বসবাস করবে।’ অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের মধ্যে মীমাংসা করলেন যে, ’হে জান্নাত! তুমি আমার অনুগ্রহ, আমি তোমার দ্বারা যার প্রতি ইচ্ছা অনুগ্রহ করব। এবং হে দোযখ! তুমি আমার শাস্তি, আমি তোমার দ্বারা যাকে ইচ্ছা তাকে শাস্তি দেব। আর তোমাদের দুটোকেই পরিপূর্ণ করা আমার দায়িত্ব।
পরিচ্ছেদঃ দুর্বল, গরীব ও খ্যাতিহীন মুসলিমদের মাহাত্ম্য
(৩৮২২) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জান্নাত ও জাহান্নামের বিবাদ হল। জাহান্নাম বলল, ’আমার মধ্যে উদ্ধত ও অহংকারী লোকেরা থাকবে।’ আর জান্নাত বলল, ’দুর্বল ও দরিদ্র ব্যক্তিরা আমার ভিতরে বসবাস করবে।’ অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের মধ্যে ফায়সালা করলেন যে, ’তুমি জান্নাত আমার রহমত, তোমার দ্বারা আমি যার প্রতি ইচ্ছা অনুগ্রহ করব। এবং তুমি জাহান্নাম আমার শাস্তি, তোমার দ্বারা আমি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেব। আর তোমাদের উভয়কেই পরিপূর্ণ করা আমার দায়িত্ব।
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدرِي عَنِ النَّبيّ ﷺ قَالَ احْتَجَّتِ الجَنَّةُ والنَّارُ فَقَالتِ النَّارُ : فِيَّ الجَبَّارُونَ وَالمُتَكَبِّرُونَ وَقَالتِ الجَنَّةُ : فِيَّ ضُعَفَاءُ النَّاسِ وَمَسَاكِينُهُمْ فَقَضَى اللهُ بَيْنَهُمَا : إنَّكِ الجَنَّةُ رَحْمَتِي أرْحَمُ بِكِ مَنْ أشَاءُ وَإنَّكِ النَّارُ عَذَابِي أُعَذِّبُ بِكِ مَنْ أشَاءُ وَلِكلَيْكُمَا عَلَيَّ مِلْؤُهَا رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - জান্নাত ও জাহান্নামের সৃষ্টি
৫৬৯৪-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: জান্নাত ও জাহান্নাম উভয়ে (তাদের রবের কাছে) অভিযোগ করল। জাহান্নাম বলল, ব্যাপার কি? আমাকে শুধু অহংকারী ও স্বৈরাচারীদের জন্য ধার্য করা হয়েছে? আর জান্নাত বলল, ব্যাপার কি? আমার মধ্যে শুধুমাত্র দুর্বল, নিম্নস্তরের ও বোকা লোকেরাই প্রবেশ করবে? তখন আল্লাহ তা’আলা জান্নাতকে বললেন, তুমি আমার রহমতের বিকাশ। অতএব আমার বান্দাদের হতে যাকে চাই, আমি তোমার দ্বারা তার প্রতি অনুগ্রহ করব। আর জাহান্নামকে বললেন, তুমি আমার শাস্তির বিকাশ। অতএব আমার বান্দাদের যাকে চাই, আমি তোমার দ্বারা তাকে ’আযাব ও শাস্তি দেব এবং তোমাদের প্রত্যেককে পরিপূর্ণ করা হবে।
অবশ্য জাহান্নাম তখন পর্যন্ত পূর্ণ হবে না; যতক্ষণ না আল্লাহ তা’আলা তাঁর পবিত্র পা তার মধ্যে স্থাপন করবেন। তখন জাহান্নাম বলবে, যথেষ্ট, যথেষ্ট, যথেষ্ট হয়েছে। এ সময় জাহান্নাম পরিপূর্ণ হয়ে যাবে এবং তার এক অংশকে আরেক অংশের সাথে চাপিয়ে দেয়া হবে। মূলত আল্লাহ তা’আলা তাঁর সৃষ্টিজীবের কারো প্রতি সামান্য পরিমাণও অন্যায় করবেন না। আর জান্নাতের ব্যাপার হলো, তার (খালি অংশ পূরণের) জন্য আল্লাহ তা’আলা নতুন নতুন সৃষ্টজীব সৃষ্টি করবেন। (বুখারী ও মুসলিম)
সহীহঃ বুখারী ৪৮৫০, মুসলিম ৩৬-(২৮৪৬), মুসনাদে আহমাদ ৮১৪৯, মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২০৮৯৩, সহীহ ইবনু হিব্বান ৭৪৪৭, আস সুনানুল কুবরা লিন্ নাসায়ী ৭৭৪০।
الفصل الاول ( بَاب خلق الْجنَّة وَالنَّار)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: تَحَاجَّتِ الْجَنَّةُ وَالنَّارُ فَقَالَتِ النَّارُ: أُوثِرْتُ بِالْمُتَكَبِّرِينَ وَالْمُتَجَبِّرِينَ وَقَالَتِ الْجَنَّةُ: فَمَا لِي لَا يَدْخُلُنِي إِلَّا ضُعَفَاءُ النَّاسِ وَسَقَطُهُمْ وَغِرَّتُهُمْ. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى لِلْجَنَّةِ: إِنَّمَا أَنْتِ رَحْمَتِي أَرْحَمُ بِكِ مَنْ أَشَاءُ مِنْ عِبَادِي وَقَالَ لِلنَّارِ: إِنَّمَا أَنْتِ عَذَابِي أُعَذِّبُ بِكِ مَنْ أَشَاءُ مِنْ عِبَادِي وَلِكُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْكُمَا مِلْؤُهَا فَأَمَّا النَّارُ فَلَا تَمْتَلِئُ حَتَّى يَضَعَ اللَّهُ رِجْلَهُ. تَقُولُ: قَطْ قَطْ قَطْ فَهُنَالِكَ تَمْتَلِئُ وَيُزْوَى بَعْضُهَا إِلَى بَعْضٍ فَلَا يَظْلِمُ اللَّهُ مِنْ خَلْقِهِ أَحَدًا وَأَمَّا الْجَنَّةُ فإِنَّ اللَّهَ ينشئ لَهَا خلقا . مُتَّفق عَلَيْهِ متفق علیہ ، رواہ البخاری (4850) و مسلم (36 / 2846)، (7173 و 7175) ۔ (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
৫
৫ মন্তব্য