Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৫ মার্চ, ২০২৬ ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ

প্রসেসর (CPU) কি? কিভাবে কাজ করে? এর গঠন এবং প্রকারভেদ

আমি প্রায় প্রতিদিনই কম্পিউটার নিয়ে কাজ করি। কাজের ফাঁকে অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেন, "ভাই, প্রসেসর কি জিনিস? এটা কী কাজ করে?" সত্যি কথা হলো, প্রসেসর বোঝা খুব কঠিন না। একটু সহজ ভাষায় বুঝলেই হয়।

এই লেখায় আমি একদম সহজ ভাষায় প্রসেসর কী, কীভাবে কাজ করে, এর গঠন কেমন এবং কত ধরনের প্রসেসর আছে সব কিছু বলব। যারা কম্পিউটার সম্পর্কে একেবারে নতুন, তাদের জন্যও এই লেখাটি কাজে আসবে।

আরও ভালোভাবে বুঝতে চাইলে আমার আগের লেখাটি পড়তে পারেন: কম্পিউটার কী, কীভাবে কাজ করে – সব প্রশ্নের উত্তর এখানে

প্রসেসর কী?

সহজ কথায়, প্রসেসর হলো কম্পিউটারের মস্তিষ্ক। আমরা যেমন মাথা দিয়ে চিন্তা করি এবং সিদ্ধান্ত নিই, কম্পিউটারও ঠিক সেভাবে প্রসেসরের মাধ্যমে সব কাজ করে।

প্রসেসরের পুরো নাম হলো CPU অর্থাৎ Central Processing Unit। বাংলায় বলা হয় কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ একক। এটি একটি ছোট্ট চিপ যা মাদারবোর্ডের উপরে বসানো থাকে। দেখতে ছোট হলেও এর ভেতরে কোটি কোটি ট্রানজিস্টর থাকে।

আমরা যখন কীবোর্ড দিয়ে কিছু টাইপ করি বা মাউস দিয়ে ক্লিক করি, সেই নির্দেশটি প্রথমে প্রসেসরের কাছে যায়। প্রসেসর সেটি বুঝে প্রয়োজনীয় কাজ করে এবং ফলাফল মনিটরে দেখায়। এই পুরো কাজটি এত দ্রুত হয় যে আমরা টেরই পাই না।

প্রসেসর কীভাবে কাজ করে?

প্রসেসরের কাজ করার পদ্ধতি মূলত তিনটি ধাপে হয়। এই তিনটি ধাপকে একসাথে বলা হয় Fetch, Decode এবং Execute চক্র।

প্রথম ধাপ: Fetch (আনয়ন) প্রথমে প্রসেসর RAM থেকে নির্দেশ (instruction) নিয়ে আসে। ধরুন আপনি একটি ফাইল খুলতে চাইছেন। সেই নির্দেশটি RAM-এ থাকে এবং প্রসেসর সেটি এনে নেয়।

দ্বিতীয় ধাপ: Decode (পাঠোদ্ধার) নির্দেশটি আনার পরে প্রসেসর সেটি বোঝার চেষ্টা করে। কম্পিউটার শুধু ০ এবং ১ বোঝে, তাই এই বাইনারি নির্দেশকে প্রসেসর নিজের ভাষায় রূপান্তর করে।

তৃতীয় ধাপ: Execute (সম্পাদন) এখন প্রসেসর নির্দেশ অনুযায়ী কাজটি সম্পন্ন করে। যেমন যোগ করা, বিয়োগ করা, কোনো ফাইল খোলা বা স্ক্রিনে কিছু দেখানো। এই তিনটি ধাপ প্রতি সেকেন্ডে কোটি কোটি বার ঘটে।

প্রসেসরের গঠন ও মূল উপাদান

একটি প্রসেসরের ভেতরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ থাকে। চলুন প্রতিটি সম্পর্কে জানি।

ALU (Arithmetic Logic Unit)

ALU হলো প্রসেসরের হিসাবের ঘর। এখানে যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগের মতো গাণিতিক কাজ হয়। পাশাপাশি দুটো তথ্য তুলনা করা, কোনটা বড় বা ছোট সেটা বের করা এই ধরনের লজিকাল কাজও ALU করে থাকে।

Control Unit (CU)

কন্ট্রোল ইউনিট হলো প্রসেসরের ট্রাফিক পুলিশের মতো। এটি পুরো প্রসেসরকে নিয়ন্ত্রণ করে। কোন কাজ কখন হবে, কোন অংশ কী করবে, সব কিছু কন্ট্রোল ইউনিট ঠিক করে দেয়।

Registers

রেজিস্টার হলো প্রসেসরের ভেতরের ছোট্ট স্টোরেজ। এটি RAM-এর চেয়েও অনেক দ্রুত। প্রসেসর যে তথ্যটি নিয়ে এখনই কাজ করছে, সেটি সাময়িকভাবে রেজিস্টারে রাখা হয়।

Cache Memory (L1, L2, L3)

ক্যাশ মেমোরি হলো প্রসেসরের কাছের দ্রুতগতির স্মৃতি। প্রায়ই যে তথ্যগুলো দরকার হয়, সেগুলো ক্যাশে রেখে দেওয়া হয় যাতে বারবার RAM থেকে আনতে না হয়।

L1 ক্যাশ সবচেয়ে দ্রুত কিন্তু আকারে ছোট। L2 একটু বড় কিন্তু একটু ধীর। L3 সবচেয়ে বড় কিন্তু তুলনামূলক ধীর। তবে তিনটিই RAM-এর চেয়ে অনেক দ্রুত।

Front Side Bus / QPI

এটি হলো প্রসেসর আর RAM-এর মধ্যের সড়ক। এই পথ দিয়ে তথ্য আসা-যাওয়া করে। এই পথ যত চওড়া ও দ্রুত, কম্পিউটার তত দ্রুত কাজ করে। পুরোনো কম্পিউটারে FSB (Front Side Bus) ব্যবহার হতো, এখন QPI বা সরাসরি মেমোরি সংযোগ ব্যবহার হয়।

প্রসেসরের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য

প্রসেসর কেনার সময় বা বোঝার জন্য কয়েকটি বিষয় জানা জরুরি।

ক্লক স্পিড (Clock Speed): প্রসেসর প্রতি সেকেন্ডে কতটি কাজ করতে পারে তা ক্লক স্পিড দিয়ে বোঝা যায়। এটি GHz (গিগাহার্টজ) দিয়ে মাপা হয়। যেমন 3.5 GHz মানে প্রতি সেকেন্ডে ৩৫০ কোটি চক্র সম্পন্ন হয়।

কোর সংখ্যা (Core Count): কোর হলো প্রসেসরের ভেতরের স্বাধীন প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট। যত বেশি কোর, তত বেশি কাজ একসাথে করা যায়। Dual Core মানে ২টি, Quad Core মানে ৪টি, Octa Core মানে ৮টি কোর।

Thread: প্রতিটি কোর একসাথে কতটি কাজের ধারা পরিচালনা করতে পারে সেটি হলো থ্রেড। সাধারণত একটি কোর ২টি থ্রেড পরিচালনা করতে পারে।

TDP (Thermal Design Power): প্রসেসর কতটুকু বিদ্যুৎ খরচ করে এবং কতটুকু তাপ উৎপন্ন করে তার পরিমাপ। ল্যাপটপের জন্য কম TDP ভালো, কারণ কম তাপ মানে বেশিক্ষণ ব্যাটারি চলে।

nm (ন্যানোমিটার): প্রসেসর তৈরির প্রক্রিয়ার সূক্ষ্মতা। সংখ্যা যত কম, প্রযুক্তি তত উন্নত। যেমন 7nm বা 5nm প্রসেসর বেশি শক্তিশালী এবং কম বিদ্যুৎ খরচ করে।

কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পড়ুন: কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশ ও তাদের কাজ: সহজ ভাষায় পূর্ণাঙ্গ গাইড

প্রসেসর কত প্রকার ও কী কী?

প্রসেসর মূলত ব্যবহারের উপর নির্ভর করে বিভিন্ন ধরনের হয়। কোনটা ডেস্কটপের জন্য, কোনটা মোবাইলের জন্য, আবার কোনটা বড় সার্ভারের জন্য তৈরি। চলুন প্রতিটি ধরন সম্পর্কে জানি।

ডেস্কটপ প্রসেসর

ডেস্কটপ কম্পিউটার এবং ল্যাপটপের জন্য যে প্রসেসর ব্যবহার হয়, সেগুলোকে ডেস্কটপ প্রসেসর বলা হয়। এই ধরনের প্রসেসর সাধারণত বেশি শক্তিশালী হয় কারণ এখানে বিদ্যুৎ এবং তাপের তেমন বাধা নেই।

বর্তমানে ডেস্কটপ প্রসেসরের বাজারে দুটি কোম্পানি রাজত্ব করছে। একটি হলো Intel এবং অন্যটি হলো AMD (Ryzen)। দুটি কোম্পানিই খুব ভালো প্রসেসর তৈরি করে, তবে দাম এবং পারফরম্যান্সে কিছুটা পার্থক্য আছে।

ইন্টেল প্রসেসর (Intel Processor)

Intel হলো পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো এবং পরিচিত প্রসেসর কোম্পানি। ১৯৭১ সালে তারাই প্রথম মাইক্রোপ্রসেসর Intel 4004 তৈরি করেছিল। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত তারা প্রসেসর তৈরিতে শীর্ষে আছে।

ইন্টেল প্রসেসর সাধারণত চারটি সিরিজে পাওয়া যায়:

Intel Core i3: এটি Intel-এর এন্ট্রি লেভেল প্রসেসর। সাধারণ অফিসের কাজ, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ডকুমেন্ট তৈরি এই ধরনের হালকা কাজের জন্য i3 যথেষ্ট। দাম কম হওয়ায় বাজেটের মধ্যে ভালো পারফরম্যান্স পাওয়া যায়।

Intel Core i5: এটি মধ্যমসারির প্রসেসর এবং সবচেয়ে জনপ্রিয়। অফিসের কাজ, হালকা গেমিং, ছবি এডিটিং সব কিছু i5 দিয়ে বেশ ভালোভাবেই করা যায়। বেশিরভাগ সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য i5 একটি আদর্শ পছন্দ।

Intel Core i7: এটি হাই-পারফরম্যান্স সিরিজ। ভিডিও এডিটিং, গেমিং, প্রোগ্রামিং এবং মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য i7 খুব ভালো কাজ করে। পেশাদার কাজের জন্য যারা ভালো পারফরম্যান্স চান তাদের জন্য এটি উপযুক্ত।

Intel Core i9: এটি Intel-এর সবচেয়ে শক্তিশালী প্রসেসর। 3D রেন্ডারিং, হেভি ভিডিও প্রোডাকশন, AI প্রজেক্ট এই ধরনের অত্যন্ত ভারী কাজের জন্য i9 ব্যবহার হয়। দামও সবচেয়ে বেশি।

ইন্টেল প্রসেসরের একটি বড় সুবিধা হলো এর single-core performance অর্থাৎ একটি কোরের কাজের গতি অনেক ভালো। তাই যেসব সফটওয়্যার একটি কোরের উপর বেশি নির্ভর করে, যেমন অনেক পুরনো গেম, সেগুলোতে Intel ভালো পারফরম্যান্স দেয়।

বাংলাদেশে বর্তমানে Intel Core i3 প্রসেসরের দাম শুরু হয় প্রায় ৭,০০০ টাকা থেকে, i5 পাওয়া যায় ১২,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকার মধ্যে, i7 এর দাম ২৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকার মধ্যে এবং i9 সিরিজের দাম ৬০,০০০ টাকার উপরে।

সব ধরনের ইন্টেল প্রসেসরের বর্তমান দাম দেখতে পারেন।

AMD Ryzen প্রসেসর

AMD অনেক পুরনো কোম্পানি হলেও Ryzen সিরিজ আসার পর থেকে তারা Intel-এর সাথে সমানে টক্কর দিচ্ছে। বিশেষত দাম এবং মাল্টি-কোর পারফরম্যান্সে AMD অনেক সময় এগিয়ে থাকে।

AMD Ryzen 3: Intel-এর i3 এর মতোই এন্ট্রি লেভেল। সাশ্রয়ী দামে ভালো পারফরম্যান্স দেয়। বাজেট পিসি তৈরির জন্য জনপ্রিয়।

AMD Ryzen 5: এটি AMD-এর সবচেয়ে জনপ্রিয় সিরিজ। Intel i5-এর সাথে সরাসরি প্রতিযোগিতা করে। অনেক ক্ষেত্রেই একই দামে Ryzen 5 বেশি কোর এবং থ্রেড দেয়, যা মাল্টিটাস্কিংয়ে সুবিধাজনক।

AMD Ryzen 7: হাই-পারফরম্যান্স সিরিজ যা Intel i7-এর প্রতিদ্বন্দ্বী। ভিডিও এডিটিং, স্ট্রিমিং এবং গেমিংয়ে Ryzen 7 অসাধারণ পারফরম্যান্স দেয়।

AMD Ryzen 9: Intel i9-এর প্রতিযোগী। পেশাদার কাজ এবং হেভি গেমিংয়ের জন্য তৈরি। বিশেষত Ryzen 9 X3D সিরিজ গেমিংয়ে এখন বিশ্বের সেরাদের একটি।

AMD Ryzen-এর বড় সুবিধা হলো একই বাজেটে Intel-এর তুলনায় বেশি কোর পাওয়া যায়। তাই ভিডিও রেন্ডারিং বা একসাথে অনেক কাজ করার ক্ষেত্রে AMD প্রায়ই এগিয়ে থাকে। পাশাপাশি AMD-এর মাদারবোর্ড সাধারণত বেশি সময় ধরে নতুন প্রসেসর সাপোর্ট করে, যা দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ী।

বাংলাদেশে Ryzen 3 পাওয়া যায় প্রায় ৮,০০০ টাকা থেকে, Ryzen 5 পাওয়া যায় ১৩,০০০ থেকে ২৮,০০০ টাকার মধ্যে, Ryzen 7 এর দাম ২৮,০০০ থেকে ৫৫,০০০ টাকার মধ্যে এবং Ryzen 9 সিরিজের দাম ৬০,০০০ টাকার উপরে।

রাইজেন প্রসেসরের বর্তমান দাম দেখতে পারেন।

তাহলে Intel নাকি AMD কোনটা কিনবেন?

এটা অনেকের মনে আসা স্বাভাবিক প্রশ্ন। সহজ উত্তর হলো:

যদি বাজেট কম থাকে এবং বেশি কোর চান তাহলে AMD Ryzen ভালো। যদি সিঙ্গেল-কোর পারফরম্যান্স এবং সফটওয়্যার কম্পাটিবিলিটি গুরুত্বপূর্ণ হয় তাহলে Intel ভালো। গেমিংয়ের জন্য এখন দুটোই প্রায় সমান, তবে AMD-এর X3D সিরিজ একটু এগিয়ে। সব ধরনের প্রসেসরের দাম ও বিস্তারিত দেখে তারপর সিদ্ধান্ত নিন।

মোবাইল প্রসেসর (Mobile SoC)

স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেটের প্রসেসরকে বলা হয় SoC অর্থাৎ System on a Chip। এখানে CPU, GPU, মেমোরি কন্ট্রোলার সব একটি চিপেই থাকে।

মোবাইল প্রসেসরের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড হলো:

Qualcomm Snapdragon: বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় মোবাইল প্রসেসর। Samsung, OnePlus, Xiaomi এর হাই-এন্ড ফোনে বেশি দেখা যায়।

MediaTek Dimensity: সাশ্রয়ী থেকে মিড-রেঞ্জ ফোনে বেশি ব্যবহার হয়। বাংলাদেশে বিক্রি হওয়া অনেক ফোনে MediaTek চিপ থাকে।

Samsung Exynos: Samsung তাদের নিজেদের কিছু ফোনে এই চিপ ব্যবহার করে।

Apple Bionic (A-series): শুধুমাত্র iPhone-এ ব্যবহার হয়। পারফরম্যান্সের দিক থেকে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী মোবাইল প্রসেসর।

সার্ভার প্রসেসর

বড় ওয়েবসাইট, ব্যাংকিং সিস্টেম বা ক্লাউড সার্ভিসের জন্য সার্ভার প্রসেসর ব্যবহার হয়। Intel-এর Xeon এবং AMD-এর EPYC সিরিজ এক্ষেত্রে জনপ্রিয়। এগুলোতে ৩২ থেকে ১২৮টি পর্যন্ত কোর থাকতে পারে।

এম্বেডেড প্রসেসর

টেলিভিশন, মাইক্রোওভেন, গাড়ির ইঞ্জিন কন্ট্রোল সিস্টেম এই ধরনের যন্ত্রে ছোট্ট বিশেষায়িত প্রসেসর ব্যবহার হয়। এগুলোকে এম্বেডেড প্রসেসর বলা হয়।

প্রসেসর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

কম্পিউটারের প্রতিটি কাজের পেছনে প্রসেসর থাকে। আপনি যখন একটি ওয়ার্ড ফাইল খোলেন, ইউটিউব ভিডিও দেখেন বা গেম খেলেন, প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রসেসর কাজ করে। প্রসেসর দুর্বল হলে কম্পিউটার স্লো হয়, হ্যাং করে এবং কাজে বিরক্তি আসে।

কম্পিউটার স্লো হওয়ার কারণ এবং সমাধান জানতে পড়ুন: কম্পিউটার স্লো হলে কী করবেন – ১০টি সহজ সমাধান

একটি ভালো প্রসেসর শুধু কাজের গতিই বাড়ায় না, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ও করে। আধুনিক প্রসেসরগুলো অনেক কম বিদ্যুতে অনেক বেশি কাজ করতে পারে। তাই ল্যাপটপের ব্যাটারি বেশিক্ষণ চলে।

পাশাপাশি প্রসেসর ভালো হলে কম্পিউটার গরম কম হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। কম্পিউটারের সঠিক যত্ন নেওয়া সম্পর্কে আরও জানতে পড়ুন: কম্পিউটারের যত্ন কীভাবে নেবেন

প্রসেসর কেনার আগে যা মাথায় রাখবেন

অনেকেই শুধু দাম দেখে প্রসেসর কেনেন। এটা ঠিক না। কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।

কাজের ধরন বুঝুন: শুধু অফিসের কাজের জন্য i3 বা Ryzen 3 যথেষ্ট। গেমিং বা এডিটিংয়ের জন্য i5/i7 বা Ryzen 5/7 নিন।

মাদারবোর্ড সাপোর্ট দেখুন: প্রতিটি প্রসেসরের একটি নির্দিষ্ট সকেট আছে। মাদারবোর্ড সেই সকেট সাপোর্ট করে কিনা দেখে নিন।

RAM এবং GPU-এর সাথে ব্যালেন্স রাখুন: শুধু ভালো প্রসেসর কিনলেই হবে না। RAM কম হলে বা GPU দুর্বল হলে পুরো সিস্টেম ধীর হয়।

কম্পিউটারের ইতিহাস জানতে পড়ুন: কম্পিউটারের ইতিহাস ও বিবর্তন: অ্যাবাকাস থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন 

প্রশ্ন ১: প্রসেসর এবং CPU কি একই জিনিস?

হ্যাঁ, CPU এবং প্রসেসর একই জিনিস। CPU মানে Central Processing Unit। কখনো কখনো মাইক্রোপ্রসেসরও বলা হয়।

প্রশ্ন ২: বেশি কোর মানেই কি বেশি ভালো?

সবসময় না। কিছু কাজ যেমন গেমিং বা সাধারণ অফিস কাজ বেশি কোরের সুবিধা নিতে পারে না। তবে ভিডিও রেন্ডারিং বা প্রোগ্রামিংয়ে বেশি কোর সত্যিই কাজে আসে।

প্রশ্ন ৩: প্রসেসর কি নিজে নিজে বদলানো যায়?

ডেস্কটপে হ্যাঁ, তবে মাদারবোর্ডের সাথে সামঞ্জস্য দেখতে হবে। ল্যাপটপে সাধারণত প্রসেসর বদলানো যায় না কারণ এটি মাদারবোর্ডে সরাসরি লাগানো থাকে।

প্রশ্ন ৪: প্রসেসর কতদিন ভালো থাকে?

সঠিক যত্নে একটি প্রসেসর ৮ থেকে ১০ বছর বা তারও বেশি সময় ভালো থাকে। তবে প্রযুক্তি দ্রুত বদলায় তাই ৫ থেকে ৬ বছর পর আপগ্রেড করার কথা ভাবা ভালো।

প্রশ্ন ৫: মোবাইলের প্রসেসর কোনটা ভালো?

ফ্ল্যাগশিপ ফোনের জন্য Snapdragon 8 সিরিজ বা Apple Bionic সেরা। মিড-রেঞ্জে Snapdragon 7 বা MediaTek Dimensity ভালো পারফরম্যান্স দেয়।

প্রশ্ন ৬: প্রসেসর গরম হলে কী করবেন?

প্রসেসরের উপরে থাকা কুলিং ফ্যান পরিষ্কার রাখুন। থার্মাল পেস্ট শেষ হয়ে গেলে নতুন করে লাগান। কম্পিউটারের ভেতরের ধুলো পরিষ্কার করুন। কম্পিউটারের যত্ন সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।

প্রশ্ন ৭: কীবোর্ড শর্টকাট দিয়ে কি প্রসেসরের উপর চাপ কমানো যায়?

সরাসরি না, তবে দ্রুত কাজ করলে কম্পিউটারের উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমে। কীবোর্ড শর্টকাট ব্যবহার করে কাজ দ্রুত করতে পারবেন।

শেষ কথা

প্রসেসর একটি কম্পিউটারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি ভালো হলে কম্পিউটার দ্রুত চলে, কাজ সহজ হয় এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। তাই কম্পিউটার কেনার সময় প্রসেসর সম্পর্কে সচেতন থাকুন।

আরও বিস্তারিত জানতে সরাসরি প্রস্তুতকারকদের অফিসিয়াল সাইট দেখতে পারেন। AMD Ryzen ডেস্কটপ প্রসেসর এবং Intel প্রসেসর এর অফিসিয়াল পেজে সব মডেলের বিস্তারিত স্পেসিফিকেশন পাওয়া যায়। মোবাইল প্রসেসর সম্পর্কে জানতে Samsung Exynos এর পেজ দেখতে পারেন। সার্ভার প্রসেসর সম্পর্কে জানতে AMD EPYC এর অফিসিয়াল পেজটি কাজে আসবে।

আশা করি এই লেখাটি পড়ে প্রসেসর সম্পর্কে আপনার একটি পরিষ্কার ধারণা হয়েছে। কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্টে জানান। আমি উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।

মন্তব্য করুন

ব্লগ