Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ মার্চ, ২০২৬ ০৯:৩৮ অপরাহ্ণ

শিক্ষকের শত্রু শিক্ষক: জ্ঞানের পরম্পরা, অভিজ্ঞতা ও নৈতিকতার সংকট



শিক্ষকের শত্রু শিক্ষক: জ্ঞানের পরম্পরা, অভিজ্ঞতা ও নৈতিকতার সংকট

শিক্ষক জাতির ভবিষ্যৎ গড়েন। তিনি শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেন না; মানুষ গড়েন, চিন্তার দিশা দেখান এবং মূল্যবোধের বীজ বপন করেন। শিক্ষক সমাজের পারস্পরিক সম্পর্কই শিক্ষাব্যবস্থার চরিত্র নির্ধারণ করে। কিন্তু কখনও কখনও শিক্ষকের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠেন আরেক শিক্ষক, তখন শিক্ষা ব্যবস্থার ভিতর নৈতিক সংকট জন্মায়।

জ্ঞান কারও একার সম্পত্তি নয়; এটি ধারাবাহিকভাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত হয়। আজকের শিক্ষক গতকালের শিক্ষকেরই শিষ্য। প্রবীণ শিক্ষকরা দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, বাস্তব দক্ষতা ও জীবনের শিক্ষা নিয়ে শিক্ষার জীবন্ত গ্রন্থাগার; নবীন শিক্ষকরা নতুন পদ্ধতি, প্রযুক্তি ও আধুনিক চিন্তা নিয়ে সেই গ্রন্থায় নতুন অধ্যায় যোগ করেন। দুটোই অপরিহার্য।

যখন ঈর্ষা, অহংকার বা অবমূল্যায়ন শিকড় গাড়ে, তখন সহযোগিতার জায়গায় বিভাজন জন্মায়। চরমপন্থী মনোভাব যেমন—“শুধু নবীনরাই পারে” বা “শুধু অভিজ্ঞরাই যথেষ্ট”—শিক্ষার প্রাণশক্তি ক্ষয় করে। শিক্ষা সহযোগিতামূলক পেশা; জ্ঞান ভাগ করে নেওয়া, অভিজ্ঞতা বিনিময় করা এবং একে অপরের কাছ থেকে শেখা মূলমন্ত্র।

সত্যিকারের জ্ঞানী শিক্ষক বিনয়ী হন। তিনি পূর্বসূরিদের শ্রদ্ধা করেন এবং নবীনদের উৎসাহ দেন। পূর্বসূরিকে অস্বীকার করা মানে নিজের শিকড় কেটে ফেলা—শিকড়হীন গাছ বাঁচে না, নতুন পাতাহীন গাছ বাড়ে না।

প্রধান শিক্ষক নির্বাচনে যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষা থাকা উচিত—স্বচ্ছতার জন্য। তবে অভিজ্ঞতার মূল্যায়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ, যাতে দীর্ঘদিনের দক্ষ শিক্ষক অবমূল্যায়িত না হন। যে শিক্ষক বিভেদ সৃষ্টি করেন, তিনি জাতির একতাবদ্ধ মানবসম্পদ গঠনে অন্তরায়। জ্ঞান ও মেধা মানুষকে বিনয়ী করার কথা; অহংকারে রূপান্তরিত জ্ঞান সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে।

শুধু জ্ঞানী বা মেধাবী হওয়া যথেষ্ট নয়; শিক্ষককে তার পথচলার শুরু স্মরণ করতে হবে। প্রবীণ শিক্ষক শিক্ষার মূল শিকড়, নবীন শিক্ষক নতুন পাতা ও ডালপালা। শিকড়কে অস্বীকার করলে গাছ বাঁচে না, নতুন পাতা না এলে বৃদ্ধি থেমে যায়। তাই শিক্ষা ব্যবস্থায় সংঘাত নয়, সমন্বয় দরকার—অভিজ্ঞতা ও নবীনতা মিলিয়ে একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়তে হবে।
-মুফিদুল আলম
শিক্ষক
রামু,কক্সবাজার।

মন্তব্য করুন

ব্লগ