সহকারী শিক্ষক
১৩ মার্চ, ২০২৬ ০৯:৫২ অপরাহ্ণ
জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর
জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর
১৯৬৫ সালের ২৬ এপ্রিল, তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ঢাকায় জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর (National Museum of Science and Technology) প্রতিষ্ঠিত করে। প্রতিষ্ঠা সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাদুঘরটি ঢাকা গণগ্রন্থাগার ভবনে স্থানান্তর করা হয় এবং পরবর্তীতে, ১৯৭০ সালের এপ্রিল মাসে এটি চামেলীবাগে স্থানান্তর করা হয়, এবং পরের বছরের মে মাসে ধানমন্ডির ১নং সড়কে স্থানান্তর করা হয়।
১৯৭২ সালে, সরকার এটিকে জাতীয় জাদুঘরের মর্যাদা প্রদান করে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে এটি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে। ১৯৮৭ সাল থেকে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর নিজস্ব ভবন থেকে তার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর রাজধানী ঢাকার আগারগাও বিএনপি বাজারে অবস্থিত।
জাদুঘরে দেখার কি আছে?
জাদুঘর প্রাঙ্গনে ৪ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন রয়েছে। ভবনের ১ম ও ২য় তলায় প্রদর্শনশালা, ৩য় তলায় অফিস এবং ৪র্থ তলায় বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি অবস্থিত। মূলত সাতটি গ্যালারি নিয়ে সাজানো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর।
প্রদর্শনী গুলতে বিজ্ঞানের জাদু তো আছেই, আছে আমাদের ভবিষ্যতের পৃথিবীর আভাস। পাঠ্যবইতে পড়ানো বিজ্ঞানের প্রায়োগিক জ্ঞান পাওয়া যাবে এই জাদুঘর ঘুরে দেখে। শিক্ষার্থীদের জন্যে বিজ্ঞানের নানাদিক হাতে কলমে দেখার অপুর্ব সুযোগ থাকছে এই জাদুঘরে।
আছে পদার্থবিজ্ঞান গ্যালারি, জীববিজ্ঞান গ্যালারি, পরমাণু কর্নার। আছে বাংলাদেশের সেরা বিজ্ঞানীদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র নিয়ে একটি অংশ।
শিল্পপ্রযুক্তি গ্যালারিতে রয়েছে বিভিন্ন শিল্পের প্রাচীন যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি। বাংলাদেশের প্রথম আইবিএম কম্পিউটারটিও রাখা আছে এই গ্যালারিতে।
প্রদর্শনশালা ছাড়া এখানে একটি গ্রন্থাগার, কর্মশালা ও মিলনায়তন রয়েছে। ভবন প্রাঙ্গণে একটি ডাইনোসরের মূর্তি এবং একটি ছোট যুদ্ধ বিমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরে প্রতি বছর প্রায় দেড় লাখ দর্শক আগমন করে। এ সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বিজ্ঞান শিক্ষার জন্য এবং বিজ্ঞান ভিত্তিক বিনোদনের জন্য জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর ক্রমশ একটি জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে।
৩
৫ মন্তব্য