সহকারী অধ্যাপক
১২ মার্চ, ২০২৬ ০৩:১১ অপরাহ্ণ
জাহান্নাম তো ওঁৎ পেতে আছে,সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য প্রত্যাবর্তন স্থল। সেখানে তারা যুগ যুগ ধরে অবস্থান করবে। সেখানে তারা কোন শীতলতা আস্বাদন করবে না এবং না কোন পানীয়।
জাহান্নাম তো ওঁৎ পেতে আছে,সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য প্রত্যাবর্তন স্থল। সেখানে তারা যুগ যুগ ধরে অবস্থান করবে। সেখানে তারা কোন শীতলতা আস্বাদন করবে না এবং না কোন পানীয়। ফুটন্ত পানি ও পুঁজ ছাড়া। ...
সূরাঃ আন-নাবা আয়াতঃ ২১-৩০মাক্কী
২১ اِنَّ جَهَنَّمَ كَانَتۡ مِرۡصَادًا
নিশ্চয় জাহান্নাম গোপন ফাঁদ।
-আল-বায়ান
জাহান্নাম তো ওঁৎ পেতে আছে,
-তাইসিরুল
নিশ্চয়ই জাহান্নাম ওঁৎ পেতে রয়েছে।
-মুজিবুর রহমান
Indeed, Hell has been lying in wait
-Sahih International
২১. নিশ্চয় জাহান্নাম ওৎ পেতে অপেক্ষমান;
তাফসীরে জাকারিয়া
২১। নিশ্চয়ই জাহান্নাম ওঁৎ পেতে রয়েছে -[1]
[1]ওঁৎ পাতার ঘাঁটি এমন জায়গাকে বলা হয়, যেখানে আত্মগোপন করে শত্রুর অপেক্ষা করা হয়। যাতে সেখান হতে তার অতিক্রম করার সময় তড়িঘড়ি হামলা করা সম্ভব হয়। জাহান্নামের দারোগারাও জাহান্নামীদের অপেক্ষায় ঐরূপ বসে আছেন। অথবা জাহান্নাম নিজেই আল্লাহর আদেশে কাফেরদের জন্য ওঁৎ পেতে অপেক্ষা করছে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!
২২ لِّلطَّاغِیۡنَ مَاٰبًا
সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য প্রত্যাবর্তন স্থল।
-আল-বায়ান
(আর তা হল) সীমালঙ্ঘনকারীদের আশ্রয়স্থল।
-তাইসিরুল
(ওটা হচ্ছে) অবাধ্য লোকদের অবস্থিতি স্থল –
-মুজিবুর রহমান
For the transgressors, a place of return,
-Sahih International
২২. সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য প্রত্যাবর্তনস্থল।
তাফসীরে জাকারিয়া
২২। সীমালংঘনকারীদের প্রত্যাবর্তনস্থল রূপে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!
২৩ لّٰبِثِیۡنَ فِیۡهَاۤ اَحۡقَابًا ﴿ۚ۲۳
সেখানে তারা যুগ যুগ ধরে অবস্থান করবে।
-আল-বায়ান
সেখানে তারা যুগ যুগ ধরে থাকবে,
-তাইসিরুল
সেখানে তারা যুগ যুগ ধরে অবস্থান করবে,
-মুজিবুর রহমান
In which they will remain for ages [unending].
-Sahih International
২৩. সেখানে তারা যুগ যুগ ধরে অবস্থান করবে।(১)
(১) অর্থাৎ তারা সেখানে অবস্থানকারী হবে সুদীর্ঘ বছর। আয়াতে ব্যবহৃত أحقاب শব্দটি حقب এর বহুবচন। এর অর্থ নির্ধারণ নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও স্বাভাবিকভাবে বলা যায় যে, এর দ্বারা ‘সুদীর্ঘ সময়’ উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে। সুতরাং أحقاب দ্বারা তখন কোন সুনির্দিষ্ট সময় বোঝা উচিত হবে না। তাই উপরে এর অনুবাদ করা হয়েছে, “যুগ যুগ ধরে’। এর মানে হচ্ছে, একের পর এক আগমনকারী দীর্ঘ সময় তারা সেখানে অবস্থান করবে। এমন একটি ধারাবাহিক যুগ যে, একটি যুগ শেষ হবার পর আর একটি যুগ শুরু হয়ে যায়। একের পর এক আসতেই থাকবে এবং এমন কোন যুগ হবে না যার পর আর কোন যুগ আসবে না। [দেখুন: ইবন কাসীর] কুরআনের ৩৪ জায়গায় জাহান্নামবাসীদের জন্য ‘খুলুদ’ (চিরন্তন) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। তিন জায়গায় কেবল খুলুদ বলেই শেষ করা হয়নি বরং তার সাথে “আবাদান” (চিরকাল) শব্দও বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এক জায়গায় পরিষ্কার বলা হয়েছে, “তারা চাইবে জাহান্নাম থেকে বের হয়ে যেতে। কিন্তু তারা কখনো সেখান থেকে বের হতে পারবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী আযাব।” [সূরা আল-মায়েদাহ: ৩৭]
তাফসীরে জাকারিয়া
২৩। সেখানে তারা যুগ যুগ ধরে অবস্থান করবে। [1]
[1] أحقاب শব্দটি حقب-এর বহুবচন। এর অর্থ হল যুগ বা যামানা। উদ্দেশ্য হল যুগযুগ ধরে চিরকালের জন্য তারা জাহান্নামে থাকবে। এই শাস্তি কাফের এবং মুশরিকদের জন্য হবে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!
২৪ لَا یَذُوۡقُوۡنَ فِیۡهَا بَرۡدًا وَّ لَا شَرَابًا
সেখানে তারা কোন শীতলতা আস্বাদন করবে না এবং না কোন পানীয়।
-আল-বায়ান
সেখানে তারা কোন শীতল ও পানীয় আস্বাদন করবে না
-তাইসিরুল
সেখানে তারা আস্বাদন করতে পাবেনা কোন ঠান্ডা কিংবা (অন্য) কোন পানীয়-
-মুজিবুর রহমান
They will not taste therein [any] coolness or drink
-Sahih International
২৪. সেখানে তারা আস্বাদন করবে না শীতলতা, না কোন পানীয়—
তাফসীরে জাকারিয়া
২৪। সেখানে তারা কোন ঠান্ডা (বস্তুর) স্বাদ গ্রহণ করতে পাবে না, আর কোন পানীয়ও (পাবে না);
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!
২৫ اِلَّا حَمِیۡمًا وَّ غَسَّاقًا
ফুটন্ত পানি ও পুঁজ ছাড়া।
-আল-বায়ান
ফুটন্ত পানি ও পুঁজ ছাড়া;
-তাইসিরুল
উত্তপ্ত পানি ও পুঁজ ব্যতীত;
-মুজিবুর রহমান
Except scalding water and [foul] purulence -
-Sahih International
২৫. ফুটন্ত পানি ও পুঁজ ছাড়া(১);
(১) মূলে গাস্সাক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এর অর্থ হয়ঃ পুঁজ, রক্ত, পুঁজ মেশানো রক্ত এবং চোখ ও গায়ের চামড়া থেকে বিভিন্ন ধরনের কঠোর দৈহিক নির্যাতনের ফলে যেসব রস বের হয়, যা প্রচণ্ড দুৰ্গন্ধযুক্ত। [ইবন কাসীর]
তাফসীরে জাকারিয়া
২৫। ফুটন্ত পানি ও (প্রবাহিত) পূঁজ ব্যতীত। [1]
[1] যা জাহান্নামীদের দেহ হতে নির্গত হবে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!
২৬ جَزَآءً وِّفَاقًا
উপযুক্ত প্রতিফলস্বরূপ।
-আল-বায়ান
উপযুক্ত প্রতিফল।
-তাইসিরুল
এটাই সমুচিত প্রতিফল।
-মুজিবুর রহমান
An appropriate recompense.
-Sahih International
২৬. এটাই উপযুক্ত প্রতিফল।(১)
(১) অর্থাৎ জাহান্নামে তাদেরকে যে শাস্তি দেয়া হবে, তা ন্যায় ও ইনসাফের দৃষ্টিতে তাদের বাতিল বিশ্বাস ও কুকর্মের অনুরূপ হবে। এতে কোন বাড়াবাড়ি হবে না। [মুয়াস্সার, সা’দী]
তাফসীরে জাকারিয়া
২৬। এটাই (তাদের) উপযুক্ত প্রতিফল। [1]
[1] অর্থাৎ, এই শাস্তি তাদের সেই কুকর্মের অনুরূপ হবে, যা তারা পার্থিব জীবনে করত।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!
২৭ اِنَّهُمۡ كَانُوۡا لَا یَرۡجُوۡنَ حِسَابًا
নিশ্চয় তারা হিসাবের আশা করত না।
-আল-বায়ান
তারা (তাদের কৃতকর্মের) কোন হিসাব-নিকাশ আশা করত না,
-তাইসিরুল
তারা কখনও হিসাবের আশংকা করতনা,
-মুজিবুর রহমান
Indeed, they were not expecting an account
-Sahih International
২৭. নিশ্চয় তারা কখনো হিসেবের আশা করত না,
তাফসীরে জাকারিয়া
২৭। তারা (পরকালে) হিসাবের আশঙ্কা করত না। [1]
[1] এ কথা প্রথমোক্ত বাক্যের কারণ দর্শিয়ে বলা হয়েছে। অর্থাৎ, সে উল্লিখিত আযাবের উপযুক্ত। কেননা, সে মৃত্যুর পর পুনর্জীবনের প্রতি বিশ্বাসীই ছিল না, যাতে তারা হিসাব-নিকাশের আশঙ্কা করত।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!
: ২৮ وَّ كَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَا كِذَّابًا
আর তারা আমার আয়াতসমূহকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছিল।
-আল-বায়ান
তারা আমার নিদর্শনগুলোকে অস্বীকার করেছিল- পুরোপুরি অস্বীকার।
-তাইসিরুল
এবং তারা দৃঢ়তার সাথে আমার নিদর্শনাবলী অস্বীকার করেছিল।
-মুজিবুর রহমান
And denied Our verses with [emphatic] denial.
-Sahih International
২৮. আর তারা আমাদের নিদর্শনাবলীতে কঠোরভাবে মিথ্যারোপ করেছিল।(১)
(১) এ হচ্ছে তাদের জাহান্নামের ভয়াবহ আযাব ভোগ করার কারণ। তারা আল্লাহর সামনে হাজির হয়ে নিজেদের আসনের হিসেব পেশ করার সময়ের কোন আশা করত না। দ্বিতীয়ত, আল্লাহ যেসব আয়াত পাঠিয়েছিলেন সেগুলো মেনে নিতে তারা সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করত এবং সেগুলোকে মিথ্য বলে প্রত্যাখ্যান করত। [ফাতহুল কাদীর]
তাফসীরে জাকারিয়া
২৮। এবং তারা আমার আয়াতসমূহকে চরমভাবে মিথ্যাজ্ঞান করত।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!
২৯ وَ كُلَّ شَیۡءٍ اَحۡصَیۡنٰهُ كِتٰبًا
আর সব কিছুই আমি লিখিতভাবে সংরক্ষণ করেছি।
-আল-বায়ান
সবকিছুই আমি সংরক্ষণ করে রেখেছি লিখিতভাবে।
-তাইসিরুল
সব কিছুই আমি সংরক্ষণ করেছি লিখিতভাবে।
-মুজিবুর রহমান
But all things We have enumerated in writing.
-Sahih International
২৯. আর সবকিছুই আমরা সংরক্ষণ করেছি লিখিতভাবে।
তাফসীরে জাকারিয়া
২৯। সব কিছুই আমি সংরক্ষণ করে রেখেছি লিখিতভাবে। [1]
[1] অর্থাৎ, লাওহে মাহ্ফুযে। অথবা সেই রেকর্ড (কর্ম-বিবরণী) উদ্দেশ্য, যা (কিরামান কাতিবীন) ফিরিশতাগণ লিখে থাকেন। কিন্তু প্রথম অর্থটি অধিকতর সঠিক। যেমন দ্বিতীয় স্থানে আল্লাহ তাআলা বলেছেন,‘‘আমি প্রত্যেক জিনিস স্পষ্ট গ্রন্থে সংরক্ষিত রেখেছি।’’ (সূরা ইয়াসীন ১২ আয়াত)
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!
: ৩০ فَذُوۡقُوۡا فَلَنۡ نَّزِیۡدَكُمۡ اِلَّا عَذَابًا
সুতরাং তোমরা স্বাদ গ্রহণ কর। আর আমি তো কেবল তোমাদের আযাবই বৃদ্ধি করব।
-আল-বায়ান
অতএব এখন স্বাদ গ্রহণ কর, আমি তোমাদের জন্য কেবল শাস্তিই বৃদ্ধি করব (অন্য আর কিছু নয়)।
-তাইসিরুল
অতঃপর তোমরা আস্বাদ গ্রহণ কর, এখন আমিতো তোমাদের যাতনাই শুধু বৃদ্ধি করতে থাকব।
-মুজিবুর রহমান
"So taste [the penalty], and never will We increase you except in torment."
-Sahih International
৩০. অতঃপর তোমরা আস্বাদ গ্রহণ কর, আমরা তো তোমাদের শাস্তিই শুধু বৃদ্ধি করব।
তাফসীরে জাকারিয়া
৩০। সুতরাং তোমরা আস্বাদন কর, এখন তো আমি শুধু তোমাদের শাস্তিই বৃদ্ধি করতে থাকব। [1]
[1] আযাব বৃদ্ধি করার অর্থ হল যে, এখন থেকে এই আযাব চিরস্থায়ী। যখনই তাদের চামড়া গলে যাবে, তখনই ওর স্থলে নুতন চামড়া সৃষ্টি করা হবে। (সূরা নিসা ৫৬ আয়াত) যখনই আগুন নিভে যাবে, তখনই পুনরায় তা প্রজ্বলিত করা হবে। (সূরা বানী ইস্রাঈল ৯৭ আয়াত)
৫
৫ মন্তব্য