প্রভাষক
১০ মার্চ, ২০২৬ ০৮:৫২ পূর্বাহ্ণ
শিক্ষাব্যবস্থাকে মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করতে চায় সরকার
বর্তমান সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করে এনে সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা, এবং বাস্তব কর্মমুখী ও জীবনমুখী দক্ষতাভিত্তিক করার লক্ষ্যে ব্যাপক সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছে। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
সরকারের গৃহীত বিস্তারিত পদক্ষেপগুলো নিচে দেওয়া হলো:
পাঠ্যক্রম ও মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিবর্তন: মুখস্থ বিদ্যার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা (Analytical thinking) বাড়াতে নতুন কারিকুলাম ও মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।
কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা: সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক ও জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা উৎপাদনমুখী ও দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে ওঠে।
প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, 'ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব' কর্মসূচি এবং বিনামূল্যে ওয়াইফাই সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত শিক্ষার প্রসার ঘটানো হচ্ছে।
শিক্ষক প্রশিক্ষণ: শিক্ষকদের আধুনিক ও দক্ষতাভিত্তিক পাঠদানে সক্ষম করে তুলতে বিশেষ প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গবেষণা ও উদ্ভাবন: বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে গবেষণা ও উদ্ভাবন (Research & Innovation) জোরদার করতে যৌথ গবেষণাগার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
মানসিক ও শারীরিক বিকাশ: কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আনন্দঘন পরিবেশে শেখার জন্য শারীরিক শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং শিল্পকলা শিক্ষাকে ৪র্থ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
শিক্ষায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি: শিক্ষার মানোন্নয়নে ধাপে ধাপে জিডিপির ৫ শতাংশ (GDP's 5%) এই খাতে বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে।
সহশিক্ষা ও অন্যান্য: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মিড-ডে মিল চালুর পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং নৈতিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
মূলত, একটি জীবনমুখী, উৎপাদনমুখী ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যেই সরকার এই কাঠামোগত সংস্কারের পথে এগোচ্ছে।
১
১ মন্তব্য