সহকারী অধ্যাপক
০৯ মার্চ, ২০২৬ ০৯:২১ অপরাহ্ণ
তারা থাকবে কাঁটাবিহীন কুলগাছের নিচে,আর কাঁদিপূর্ণ কলাগাছের নিচে,আর বিস্তৃত ছায়ায়,.আর প্রচুর ফলমূলে,যা শেষ হবে না এবং নিষিদ্ধও হবে না। তারা থাকবে) সুউচ্চ শয্যাসমূহে
|
|
তারা থাকবে কাঁটাবিহীন কুলগাছের নিচে,আর কাঁদিপূর্ণ কলাগাছের নিচে,আর বিস্তৃত ছায়ায়,.আর প্রচুর ফলমূলে,যা শেষ হবে না এবং নিষিদ্ধও হবে না। তারা থাকবে) সুউচ্চ শয্যাসমূহে;নিশ্চয় আমি হূরদেরকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করব।অতঃপর তাদেরকে বানাব কুমারী,সোহাগিনী ও সমবয়সী।
সূরাঃ আল-ওয়াকিয়া আয়াতঃ ২১-৩৮মাক্কী
২১ وَ لَحۡمِ طَیۡرٍ مِّمَّا یَشۡتَهُوۡنَ
আর পাখির গোশ্ত নিয়ে, যা তারা কামনা করবে।
২১. আর তাদের ঈপ্সিত পাখীর গোশত নিয়ে।(১)
(১) অর্থাৎ রুচিসম্মত পাখির গোশত। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কাউসার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, এটা এমন এক নাহর যা আমাকে আল্লাহ্ জান্নাতে দান করেছেন। যার মাটি মিসকের, যার পানি দুধের চেয়েও সাদা, আর যা মধু থেকেও সুমিষ্ট। সেখানে এমন এমন উঁচু ঘাড়বিশিষ্ট পাখিসমূহ পড়বে যেগুলো দেখতে উটের ঘাড়ের মত। তখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এগুলো তো অত্যন্ত আকর্ষণীয় হবে। তিনি বললেন, যারা সেগুলো খাবে তারা তাদের থেকেও আকর্ষণীয়।” [মুসনাদে আহমাদ; ৩/২৩৬, তিরমিযী: ২৫৪২, আল-মুখতারাহ: ২২৫৮]
তাফসীরে জাকারিয়া
(২১) আর তাদের পছন্দমত পাখীর গোশত নিয়ে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!
২২ وَ حُوۡرٌ عِیۡنٌ
আর থাকবে ডাগরচোখা হূর,
২২. আর তাদের জন্য থাকবে ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট হূর,
তাফসীরে জাকারিয়া
(২২) আর (তাদের জন্য থাকবে) আয়তলোচনা হুর;
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!
২৩ كَاَمۡثَالِ اللُّؤۡلُوَٴ الۡمَكۡنُوۡنِ
যেন তারা সুরক্ষিত মুক্তা,
২৩. যেন তারা সুরক্ষিত মুক্তা(১),
(১) আলোচ্য আয়াতে জান্নাতের নারীদের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। জান্নাতে দু ধরনের নারী থাকবে।
এক. সে সমস্ত নারী যারা দুনিয়াতে ছিল। তারা সেখানে স্ত্রী হিসেবে থাকবে। এ সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো:
* দুনিয়াতে যারা যাদের স্ত্রী ছিল তারা আখেরাতে তাদের স্বামীরা যদি জান্নাতে যায় তখন তারাও তাদের স্ত্রী হিসেবে থাকবে। এর প্রমাণ আল্লাহর বাণী, “স্থায়ী জান্নাত, তাতে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের পিতা-মাতা, পতি-পত্নী ও সন্তানসন্ততিদের মধ্যে যারা সৎকাজ করেছে তারাও, এবং ফিরিশতাগণ তাদের কাছে উপস্থিত হবে প্রত্যেক দরজা দিয়ে,” [সূরা আর-রাদ: ২৩] সুতরাং তারা জান্নাতে পরস্পর আনন্দে বসবাস করবে। মহান আল্লাহ বলেন, “তারা এবং তাদের স্ত্রীগণ বলেন, “তোমরা এবং তোমাদের সহধর্মিণগণ সানন্দে জান্নাতে প্ৰবেশ কর।” [সূরা আয-যুখরুফ: ৭০]
* দুনিয়াতে যদি কোন মহিলা পরপর কয়েকজনের স্ত্রী ছিল, তারপর যদি সে সমস্ত পুরুষেরা সবাই জান্নাতে যায় এবং সবাই মহিলার জন্য সমপর্যায়ের হয়, তবে সে মহিলা তাদের মধ্যকার সর্বশেষ ব্যক্তিটির স্ত্রী হবে। কারণ মৃত্যুর কারণে তাদের পূর্বের সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়নি। স্বামীর জান্নাতে যাওয়ার কারণে এটা স্পষ্ট প্রতীয়মান হবে যে, সে তার স্ত্রীর সাথে ভাল ব্যবহার করেছে। সুতরাং মহিলা তার সর্বশেষ যে স্বামীর সাথে ঘর করা অবস্থায় মারা গেছে তার সাথে সে জান্নাতে থাকবে। এর প্রমাণ রাসূল এর বাণী; তিনি বলেন, যে মহিলার স্বামী মারা যাওয়ার পরে অন্য স্বামী গ্ৰহণ করেছে সে তার সর্বশেষ স্বামীর সাথে জান্নাতে থাকবে। [ত্বাবরানী: আল-আওসাত: ৩/২৭৫, নং ৩১৩০, মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ৪/২৭০]
অন্য বর্ণনায় এসেছে, আসমা বিনতে আবি বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা যুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহুর স্ত্রী ছিলেন। তিনি তাঁর স্ত্রীর সাথে কঠোর ব্যবহার করতেন। আসমা তার পিতা আবু বকরের কাছে অভিযোগ করলে তিনি বললেন, বেটি! সবর করো, কোন মহিলা যদি তার স্বামীর সাথে থাকা অবস্থায় মারা যায় তারপর দু’জনই জান্নাতে যায় তবে আল্লাহ তাদের দু’জনকে জান্নাতেও এক সাথে রাখবেন। (বিশেষ করে যুবাইর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মানুষ) [তারিখে ইবনে আসাকির ১৯/১৯৩]
অনুরূপ অন্য বর্ণনায় এসেছে যে, হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তার স্ত্রীকে মৃত্যুর সময় বলেন যে, তুমি যদি আখেরাতে আমার স্ত্রী হতে চাও তবে আমার পরে আর কারো সাথে বিয়ে করবেনা। কারণ; একজন মহিলা তার সর্বশেষ স্বামীর সাথেই জান্নাতে থাকবে। আর এজন্যই আল্লাহ তাঁর নবীর স্ত্রীদেরকে নবীর পরে বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন। [বাইহাকী: আস-সুনানুল কুবরা: ৭/৬৯–৭০, খতিব বাগদাদী: তারিখে বাগদাদ: ৯/৩২৮]
অনুরূপভাবে অন্য বর্ণনায় এসেছে যে, আবুদ্দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহুর মৃত্যুর পরে মু'আবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু তার স্ত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তিনি এই বলে ফেরত দিলেন যে, আবুদ্দারদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু
* আর যদি কারও স্বামী জান্নাতী না হয় তখন তাকে আল্লাহ যার সাথে পছন্দ করেন তার সাথে জান্নাতে থাকতে দিবেন।...
৫৬ : ২৪ جَزَآءًۢ بِمَا كَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ
তারা যে আমল করত তার প্রতিদানস্বরূপ।
২৪. তাদের কাজের পুরস্কারস্বরূপ।
তাফসীরে জাকারিয়া
(২৪) তাদের কর্মের পুরস্কার স্বরূপ।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!
২৫ لَا یَسۡمَعُوۡنَ فِیۡهَا لَغۡوًا وَّ لَا تَاۡثِیۡمًا ﴿
তারা সেখানে শুনতে পাবে না কোন বেহুদা কথা, এবং না পাপের কথা;
২৫. সেখানে তারা শুনবে না কোন আসার বা পাপবাক্য(১),
(১) এটি জান্নাতের বড় বড় নিয়ামতের একটি। এসব নিয়ামত সম্পর্কে কুরআন মজীদের কয়েকটি স্থানে বর্ণনা করা হয়েছে যে, মানুষের কান সেখানে কোন অনর্থক ও বাজে কথা, মিথ্যা, গীবত, চোগলখুরী, অপবাদ, গালি, অহংকার ও বাজে গালগল্প বিদ্রুপ ও উপহাস, তিরস্কার ও বদনামমূলক কথাবার্তা শোনা থেকে রক্ষা পাবে। [যেমনঃ আল-গাশিয়াহঃ ১১, মার্ইয়ামঃ ৬২]
তাফসীরে জাকারিয়া
(২৫) তারা শুনবে না কোন অসার অথবা পাপবাক্য।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!
২৬ اِلَّا قِیۡلًا سَلٰمًا سَلٰمًا
শুধু এই বাণী ছাড়া, ‘সালাম, সালাম’
২৬. ‘সালাম’ আর ‘সালাম’ বাণী ছাড়া।
তাফসীরে জাকারিয়া
(২৬) সালাম-সালাম (শান্তি) বাণী ব্যতীত। [1]
[1] অর্থাৎ, পৃথিবীতে তো পরস্পর দন্ধ-বিবাদ হয়। এমনকি (আপন) ভায়ে-ভায়ে ও বোনে-বোনেও বিবাদ লেগে থাকে। এই ঝগড়া-বিবাদের ফলে অন্তরে জন্ম নেয় এমন ঘৃণা, বিদ্বেষ ও শত্রুতা, যা একে অপরের বিরুদ্ধে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার, গালি-গালাজ এবং গীবত ও চুগলী ইত্যাদি করার উপর উদ্বুদ্ধ করে। জান্নাত এ সমস্ত চারিত্রিক নোংরামি ও পঙ্কিলতা থেকে কেবল পবিত্রই হবে না, বরং সেখানে শুধু সালাম আর সালামেরই ধ্বনি মুখরিত হবে; ফিরিশতাদের পক্ষ থেকেও এবং জান্নাতবাসীদের পরস্পরের পক্ষ থেকেও। যার অর্থ হল, সেখানে সালাম-সম্ভাষণ তো হবে, কিন্তু অন্তর ও জিভের সেই নোংরামি থাকবে না, যা পৃথিবীতে ব্যাপকহারে বিদ্যমান রয়েছে। এমনকি বড় বড় দ্বীনদার ব্যক্তিরাও এ জঘন্য অভ্যাস থেকে সুরক্ষিত নয়।
২৭ وَ اَصۡحٰبُ الۡیَمِیۡنِ ۬ۙ مَاۤ اَصۡحٰبُ الۡیَمِیۡنِ
আর ডান দিকের দল; কত ভাগ্যবান ডান দিকের দল!
২৭. আর ডান দিকের দল, কত ভাগ্যবান ডান দিকের দল!
তাফসীরে জাকারিয়া
(২৭) আর ডান হাত-ওয়ালারা, কত ভাগ্যবান ডান হাত-ওয়ালারা! [1]
[1] এ পর্যন্ত অগ্রবর্তী (مُقَرَّبِيْنَ) নৈকট্যপ্রাপ্তদের আলোচনা ছিল। এবারে أَصْحَابُ الْيَمِيْنِ (ডান হাত-ওয়ালা) থেকে সাধারণ মু’মিনদের কথা আলোচনা হচ্ছে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!
২৮ فِیۡ سِدۡرٍ مَّخۡضُوۡدٍ
তারা থাকবে কাঁটাবিহীন কুলগাছের নিচে,
২৮. তারা থাকবে এমন উদ্যানে, যাতে আছে(১) কাঁটাহীন কুলগাছ(২),
(১) অর্থাৎ জান্নাতে প্রবেশের পরে তাদের কি কি নেয়ামত থাকবে তাই এখানে বর্ণিত হয়েছে। [তাবারী]
(২) জান্নাতের নেয়ামতসমূহ অসংখ্য, অদ্বিতীয় ও কল্পনাতীত। তন্মধ্যে কুরআন পাক মানুষের বোধগম্য, ও পছন্দসই বস্তুসমূহ উল্লেখ করেছে। হাদীসে এসেছে, এক বেদুঈন এসে জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ্ তা'আলা কুরআনে একটি কষ্টদায়ক গাছের কথা উল্লেখ করেছেন। আমি মনে করিনি যে, জান্নাতে কষ্ট দায়ক কিছু থাকবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সেটা কি? বেদুঈন বলল: বরই। কেননা তাতে কাঁটা রয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “সেটা হবে কাটাহীন বরই গাছ। প্রতিটি কাটার জায়গায় একটি করে ফল থাকবে। এটা শুধু ফলই উৎপাদন করবে। ফলের সাথে বাহাত্তরটি বাহারী রং থাকবে যার এক রং অন্য রংয়ের সাথে সাদৃশ্য রাখবে না।”
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!
২৯ وَّ طَلۡحٍ مَّنۡضُوۡدٍ
আর কাঁদিপূর্ণ কলাগাছের নিচে,
২৯. এবং কাদি ভরা কলা গাছ,
তাফসীরে জাকারিয়া
(২৯) কাঁদি ভরা কলাগাছ।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!
: ৩০ وَّ ظِلٍّ مَّمۡدُوۡدٍ
আর বিস্তৃত ছায়ায়,
৩০. আর সম্প্রসারিত ছায়া(১),
(১) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “জান্নাতে এমন গাছ থাকবে যার ছায়ায় ভ্ৰমণকারী একশত বছর ভ্ৰমণ করেও শেষ করতে পারবে না।” [বুখারী: ৪৮৮১, মুসলিম: ২১৭৫]
তাফসীরে জাকারিয়া
(৩০) সম্প্রসারিত ছায়া। [1]
[1] যেমন এক হাদীসে আছে যে, ‘‘জান্নাতের একটি গাছের ছায়া তলে একজন অশবারোহী একশ’ বছর পর্যন্ত চলতে থাকবে, তবুও সে ছায়া শেষ হবে না।’’ (বুখারীঃ তাফসীর সূরা ওয়াকিআহ, মুসলিমঃ জান্নাত অধ্যায়)
৩১ وَّ مَآءٍ مَّسۡكُوۡبٍ
আর সদা প্রবাহিত পানির পাশে,
৩১. আর সদা প্রবাহমান পানি,
তাফসীরে জাকারিয়া
(৩১) সদা প্রবহমান পানি।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!
: ৩২ وَّ فَاكِهَۃٍ كَثِیۡرَۃٍ
আর প্রচুর ফলমূলে,
৩২. ও প্রচুর ফলমূল,
তাফসীরে জাকারিয়া
(৩২) এবং প্রচুর ফলমূল;
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!
৩৩ لَّا مَقۡطُوۡعَۃٍ وَّ لَا مَمۡنُوۡعَۃٍ
যা শেষ হবে না এবং নিষিদ্ধও হবে না।
৩৩. যা শেষ হবে না ও যা নিষিদ্ধও হবে না।(১)
(১) দুনিয়ার সাধারণ ফলের অবস্থা এই যে, মওসুম শেষ হয়ে গেলে ফলও শেষ হয়ে যায়। কোন ফল গ্ৰীষ্মকালে হয় এবং মওসুম শেষ হয়ে গেলে নিঃশেষ হয়ে যায়। আবার কোন ফল শীতকালে হয় এবং
৩৪ وَّ فُرُشٍ مَّرۡفُوۡعَۃٍ
(তারা থাকবে) সুউচ্চ শয্যাসমূহে;
৩৪. আর সমুচ্চ শয্যাসমূহ(১);
(১) فرش শব্দটি فراش এর বহুবচন। অর্থ বিছানা। উচ্চস্থানে বিছানো থাকবে বিধায় জান্নাতের শয্যা সমুন্নত হবে। দ্বিতীয়ত, এই বিছানা মাটিতে নয়, পালঙ্কের উপর থাকবে। তৃতীয়ত, স্বয়ং বিছানাও খুব পুরু হবে। কারও কারও মতে এখানে বিছানা বলে শয্যাশায়িনী নারী বোঝানো হয়েছে। কেননা, নারীকেও বিছানা বলে ব্যক্ত করা হয়। এই অর্থ অনুযায়ী مرفوعة এর অর্থ হবে উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ও সম্রান্ত। [ইবন কাসীর; কুরতুবী; বাগভী]
তাফসীরে জাকারিয়া
(৩৪) আর সমুচ্চ শয্যাসমূহ। [1]
[1] কেউ কেউ فُرُشٍ থেকে অর্থ নিয়েছেন স্ত্রীগণ। আর مَرفوعة এর নিয়েছেন উচ্চ মর্যাদাসম্পন্না। যেহেতু পরবর্তীতে তাদের কথাই আলোচনা হয়েছে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!
: ৩৫ اِنَّاۤ اَنۡشَاۡنٰهُنَّ اِنۡشَآءً
নিশ্চয় আমি হূরদেরকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করব।
৩৫. নিশ্চয় আমরা তাদেরকে সৃষ্টি করেছি বিশেষরূপে(১)—
(১) أنشأ শব্দের অর্থ সৃষ্টি করা। هُنَّ সর্বনাম দ্বারা জান্নাতের নারীদেরকে বোঝানো হয়েছে। পূর্বোক্ত আয়াতে فرش এর অর্থ জান্নাতে নারী হলে তার স্থলেই এই সর্বনাম ব্যবহৃত হয়েছে। এছাড়া শয্যা, বিছানা ইত্যাদি ভোগবিলাসের বস্তু উল্লেখ করায় নারীও তার অন্তর্ভুক্ত আছে বলা যায়। আয়াতের অর্থ এই যে, আমি জান্নাতের নারীদেরকে এক বিশেষ প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি করেছি। [কুরতুবী] জান্নাতী হুরদের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রক্রিয়া এই যে, তাদেরকে জান্নাতেই প্রজননক্রিয়া ব্যতিরেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। দুনিয়ার যেসব নারী জান্নাতে যাবে, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষভঙ্গি এই যে, যারা দুনিয়াতে কুশ্ৰী, কৃষ্ণাঙ্গ অথবা বৃদ্ধ ছিল; জান্নাতে তাদেরকে সুশ্ৰী দূরবর্তী ও লাবণ্যময়ী করে দেয়া হবে। আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেনঃ একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গৃহে আগমন করলেন। তখন এক বৃদ্ধা আমার কাছে বসা ছিল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন এ কে? আমি আরয করলামঃ সে সম্পর্কে আমার খালা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রসচ্ছলে বললেনঃ “জান্নাতে কোন বৃদ্ধা প্রবেশ করবে না”। একথা শুনে বৃদ্ধ বিষন্ন হয়ে গেল। কোন কোন বর্ণনায় আছে কাঁদতে লাগল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে সান্ত্বনা দিলেন এবং স্বীয় উক্তির অর্থ এই বর্ণনা করলেন যে, বৃদ্ধারা যখন জান্নাতে যাবে, তখন বৃদ্ধা থাকবে না; বরং যুবতী হয়ে প্ৰবেশ করবে। অতঃপর তিনি উপরোক্ত আয়াত পাঠ করে শোনালেন। [শামায়েলে তিরমিযী: ২৪০]
তাফসীরে জাকারিয়া
(৩৫) তাদেরকে (হুরীগণকে) আমি সৃষ্টি করেছি বিশেষরূপে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!
৩৬ فَجَعَلۡنٰهُنَّ اَبۡكَارًا
অতঃপর তাদেরকে বানাব কুমারী,
৩৬. অতঃপর তাদেরকে করেছি কুমারী(১),
(৩৬) তাদেরকে করেছি কুমারী। [1]
[1] أَنْشَأْنَاهُنَّ এর মধ্যে সর্বনাম যদিও নিকটের কোন বিশেষ্যকে জ্ঞাপন করছে না, তবুও আলোচনার প্রাসঙ্গিকতা এটা প্রমাণ করছে যে, এ থেকে উদ্দেশ্য হল সেই নারী ও হুরগণ, যা জান্নাতবাসীরা লাভ করবে। জান্নাতী হুরগণ সাধারণ জন্ম পদ্ধতির মাধ্যমে জন্ম লাভকারিণী নয়, বরং মহান আল্লাহ জান্নাতে তাদেরকে তাঁর বিশেষ কুদরতে বিশেষ পদ্ধতিতে সৃষ্টি করেছেন। আর হুর ছাড়া পার্থিব স্ত্রীগণকেও জান্নাতবাসীরা স্ত্রী হিসাবে পাবে। এদের মধ্যে বৃদ্ধা, কালো ও কুশ্রী যে যাই হবে, সবাইকে মহান আল্লাহ জান্নাতে যৌবন ও রূপ-লাবণ্য দানে ধন্য করবেন। না কোন বৃদ্ধা বৃদ্ধা থাকবে, আর না কোন কুশ্রী কুশ্রী থাকবে। বরং সবাই হবে কুমারী এবং অনিন্দ্য সুন্দরী।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!
৩৭ عُرُبًا اَتۡرَابًا ﴿
সোহাগিনী ও সমবয়সী।
-Sahih International
৩৭. সোহাগিনী(১) ও সমবস্কা(২),
(১) عرب শব্দটি عروبة এর বহুবচন। অর্থ স্বামী সোহাগিনী ও প্রেমিকা নারী। আরবী ভাষায় এ শব্দটি মেয়েদের সর্বোত্তম মেয়েসুলভ গুণাবলী বুঝাতে বলা হয়। এ শব্দ দ্বারা এমন মেয়েদের বুঝানো হয় যারা কামনীয় স্বভাব ও বিনীত আচরণের অধিকারিনী, সদালাপী, নারীসুলভ আবেগ অনুভূতি সমৃদ্ধা, মনে প্রাণে স্বামীগত প্রাণ এবং স্বামীও যার প্রতি অনুরাগী। [কুরতুবী; ইবন কাসীর]
৩৮ لِّاَصۡحٰبِ الۡیَمِیۡنِ
ডানদিকের লোকদের জন্য।
৩৮. ডানদিকের লোকদের জন্য।
তাফসীরে জাকারিয়া
(৩৮) ডান হাত-ওয়ালাদের জন্য।
৫
৫ মন্তব্য