আজ ১৯ তম রোজা।
লাইলাতুল কদর বা পবিত্র কুরআন নাজিলের রাত আমাদের সামনে । এ রাতের গুরুত্ব ও ফজিলত
স্বয়ং মহান আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করে পূর্ণাঙ্গ একটি সূরা সূরাতুল ক্বদর
নাজিল করেছেন। পবিত্র শবে কদর বা লাইলাতুল কদর হলো রমজান মাসের শেষ দশ দিনের বিজোড় রাতগুলোর মধ্যে অন্যতম, যা "সহস্র মাস অপেক্ষা উত্তম"। এ রাতে পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হয় এবং মানবজাতির ভাগ্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়। এটি আল্লাহর অশেষ রহমত ও ক্ষমা লাভের রজনী, যেখানে ইবাদত-বন্দেগী, কুরআন তিলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে আধ্যাত্মিক পূর্ণতা অর্জন করা হয়।
শবে কদরের গুরুত্ব:
- সর্বশ্রেষ্ঠ রাত: এটি বছরের মধ্যে সবচেয়ে মহিমান্বিত,
সম্মানিত ও বরকতময় রাত, যাকে 'লাইলাতুল কদর'
(মহিমান্বিত রাত) বলা হয়।
- কুরআন নাজিল: এ রাতেই হেরা গুহায় ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর পবিত্র কুরআন নাজিলের সূচনা হয়।
- ভাগ্য নির্ধারণ: এ রাতে আগামী এক বছরের জন্য মানবজাতির ভাগ্য বা তাকদির পুনর্নির্ধারিত হয়।
শবে কদরের ফজিলত:
১০০০ মাসের চেয়ে উত্তম: পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে,
এ রাতের ইবাদত ১০০০ মাস (প্রায় ৮৩ বছর ৪ মাস) বা তার চেয়েও বেশি ইবাদতের চেয়ে উত্তম।
- ফেরেশতাদের অবতরণ: এ রাতে আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতারা পৃথিবীতে রহমত ও শান্তির বার্তা নিয়ে অবতরণ করেন।
- ক্ষমা ও ক্ষমা প্রাপ্তি: এই রাতে আন্তরিকভাবে ইবাদত করলে পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব হয়।
শবে কদরের শিক্ষা:
- কুরআন অনুধাবন: কুরআন নাজিলের রাতে এর বাণী বোঝা, আমল করা এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা।
- ইবাদতে একাগ্রতা: রমজানের শেষ দশকে ইবাদতে বিশেষ মনোযোগ,
নফল সালাত, জিকির ও কুরআন তিলাওয়াত বৃদ্ধি করা।
- সংশোধন ও আত্মোপলব্ধি: নিজের গুনাহের জন্য লজ্জিত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া (তওবা) এবং ভবিষ্যৎ জীবনে পাপ থেকে দূরে থাকার সংকল্প করা।
- মানবসেবা: ইবাদতের পাশাপাশি অভাবী মানুষকে সাহায্য করা ও দয়ার্দ্র হওয়ার মানসিকতা তৈরি করা।
সাধারণত রমজানের২১,
২৩, ২৫, ২৭ বা ২৯ তারিখের রাতগুলোতে (বিজোড় রাত) শবে কদর অনুসন্ধানের জন্য নবীজি (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন।
৫
৫ মন্তব্য