প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক ও সম্ভাবনার ক্ষেত্র।
প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক হিসেবে নিজেকে মেলে ধরায় অনন্য এক সুযোগ আছে।
প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুদের সাদামন নিয়ে কাজ করার আনন্দের সীমা নেই। স্বপ্ন দর্শনের আলোকবর্তিকা একজন প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক হতে পারে। একটা গবেষণা জগতের পেশা এটা। শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক বিষয় নিয়ে গবেষণার অনেক সুযোগ আছে প্রাথমিক শিক্ষকের।
এমন পেশায় থেকে নিজেকে মেলে ধরার অনেক সুযোগ রয়েছে।
১. সেরা উদ্ভাবক হওয়া-
প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন চিন্তাভাবনার বাস্তবে রূপান্তরের মাধ্যমে একজন শিক্ষক জাতীয়ভাবে সেরা হতে পারে। একজন শিক্ষকের মুক্ত চিন্তাগুলো যা প্রাথমিক শিক্ষায় প্রয়োজন তার কাঠামো পরিকল্পনা প্রণয়ন, নিজ বিদ্যালয়ে প্রয়োগ, সমস্যা, সমাধান উপস্থাপন করে উপজেলা, জেলা, বিভাগ এবং জাতীয় পর্যায়ে উপস্থাপন করে নিজের চিন্তা বিকাশিত করা যায়।
যেমন : "সেরা মা" এমন একটি উদ্ভাবনের নাম, যেখানে শিক্ষার্থীদের মায়েদের বিদ্যালয় বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ততা করে বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থী উন্নয়নে ভূমিকা হিসেবে সেরা মা নির্বাচিত করা।
২. উপকরণ মেলায় সেরা-
একজন প্রাথমিক শিক্ষায় পাঠদানের উপকরণের যথেষ্ট ব্যবহার আছে। উপকরণের মাধ্যমে শিক্ষাদান ফলপ্রসূ হয়।
উপকরণ বলতে কোনো দামি জিনিস নয়। সহজলভ্য ও স্বল্পব্যয়ী উপকরণ এনে দিতে পারে শিক্ষায় আকর্ষণীয়। এসব উপকরণ তৈরি করে প্রদর্শনীর সুযোগ আছে। হতে পারেন সেরা উপকরণ নির্মাতা।
যেমন : যোগ যন্ত্র, কাগজের তৈরি যোগ যন্ত্র দিয়ে খুব সহজে যোগ করা যায়। যোগ যন্ত্র বানাতে কোনো অর্থ ব্যয় হয় না।
৩. শ্রেষ্ঠ শিক্ষক-
প্রতিবছর আগস্টের দিকে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক বাছাই করা হয়। শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হওয়ার ক্ষেত্রে যে-সব দিক বিবেচনা করা হয় তা হলো-
-শিক্ষাগত যোগ্যতা
-শিক্ষাগত অভিজ্ঞতা
-শিশুতোষ প্রকাশনা
-রুটিন অনুযায়ী ক্লাস পরিচালনা।
-পাঠ পরিকল্পনা তৈরি
-বিষয় জ্ঞান
-ভাষাগত যোগ্যতা
-পাঠদানে দক্ষতা
-সহজলভ্য শিক্ষা উপকরণ তৈরি।
-পাঠদানে উত্তর দেওয়া দক্ষতা।
-বাচন, ভঙ্গি ও পাঠ দানের কৌশল
-পাঠদানে আনন্দদায়ক পরিবেশ সৃস্টি
-শিশুদের নাম জানা
-পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের নাম জানা।
-ঝড়ে পড়া রোদ।
-ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও রেকর্ড সংরক্ষণ।
-ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি ও শিক্ষক বাতায়নে আপলোড করা।
-বিদ্যালয়ে বাগান করা।
-ইনোভেশন
উপরের মানদণ্ডের উপর ভিত্তি করে ১০০ নম্বরের মধ্যে প্রাপ্ত মার্কে এগিয়ে থাকলে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হওয়া যায়। এই বাছাই ক্ষেত্রে ডকুমেন্টস যাচাই ও বাস্তব প্রয়োগ দেখা হয়। উপজেলায় শ্রেষ্ঠ, জেলা,বিভাগ এবং জাতীয়ভাবে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত করা হয়।
৪. বিষয় ভিত্তি প্রশিক্ষক হওয়া।
উপজেলা থেকে প্রতিবছর ট্রেইনার বাছাই করা হয়। বাংলা, ইংরেজি, বিজ্ঞান, গণিতের ট্রেইনার হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করার এক সুযোগ আছে। যেখানে আপনার প্রাইমারি শিক্ষা সম্পর্কে জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে পারবেন বড়ো পরিসরে।
কাব স্কাউট লিডার হওয়া ও ট্রেইনার হওয়া-
কাব স্কাউটের এমন এক জগৎ যেখানে আনন্দের কোনো শেষ নেই।
৬. সেরা কন্টেন্ট নির্মাতা-
শিক্ষক বাতায়নে সেরা কন্টেন্ট নির্মাতা হওয়ার মাধ্যমে?
জাতীয়ভাবে নিজেকে প্রকাশ করা।
আইসিটি অ্যাম্বাসেডর হওয়া-
বিভিন্ন মানদণ্ড অর্জন করলে আইসিটি অ্যাম্বাসেডর হয়ে জেলা, উপজেলা ও বিদ্যালয় পর্যায়ে প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করা যায়।
-শিক্ষক বাতায়নে নিয়মিত কন্টেন্ট আপলোড করা-৩০ টি
-মানসম্মত পাঠ সংক্রমিত ছবি-৩০টি
-ব্লক তৈরি করা।
-ভিডিয়ো ক্লাস তৈরি-৩০ টি
-বিভিন্ন আইসিটি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা।
-সেরা কনটেন্ট নির্মাতা হওয়া।
এগুলো অর্জন করে শিক্ষক বাতায়নে আবেদন করতে হয়।
এভাবে নিজের প্রযুক্তি জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ আছে।
৮. বিভিন্ন বই প্রকাশ করা।
৯. সমাজ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রিয় শিক্ষক হওয়া।
১০. গবেষণা পত্র বের করা ও বিদেশ থেকে প্রশিক্ষণ এবং ডিগ্রি
পরিশেষে বলা যায়, প্রাথমিক শিক্ষক হয়ে নিজের জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে নিজেকে প্রকাশের অপার সম্ভাবনা আছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে। তাই শিক্ষা নিয়ে কাজ করলে দেশ ও জাতির উন্নয়নে ভূমিকা রেখে এক সোনালি শিক্ষকতা জীবন পাড় করতে পারা যায়।
ফেরদাউস রুমেল
উপজেলা শ্রেষ্ঠ শিক্ষক
জেলা আইসিটি অ্যাম্বাসেডর
বাদল রতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
মেহেন্দিগঞ্জ, বরিশাল
১
১ মন্তব্য