সহকারী শিক্ষক
০৮ মার্চ, ২০২৬ ০৮:১৬ অপরাহ্ণ
জামদানী শাড়ির ইতিহাস
জামদানি শাড়ি বাংলার প্রাচীন মসলিন সংস্কৃতির একটি অনন্য ঐতিহ্য, যার ইতিহাস প্রায় ২,০০০ বছরের পুরনো [১, ১৩]। ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে (সোনারগাঁও) এই কারুশিল্পের বিকাশ ঘটে, যা মুঘল আমলে চূড়ান্ত জনপ্রিয়তা পায় [২, ১০]। ফার্সি শব্দ 'জামা' (কাপড়) ও 'দানি' (বুটি) থেকে জামদানি নামের উৎপত্তি, যার অর্থ নকশা করা বা বুটিদার কাপড় [৪, ১১]।
জামদানি শাড়ির ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়সমূহ:
প্রাচীন ও প্রাক-মুঘল যুগ: খ্রিষ্টীয় ৩য় শতকের দিকেও বাংলার সূক্ষ্ম বস্ত্রের উল্লেখ পাওয়া যায়, যা জামদানির পূর্বসূরি [৯, ১৫]। এটি প্রাচীন বাংলার অত্যন্ত সূক্ষ্ম মসলিনের ওপর হাতে বোনা নকশা [৬, ৮]।
মুঘল আমল (স্বর্ণযুগ): ১৬শ-১৮শ শতকে মুঘল সম্রাট ও নবাবদের পৃষ্ঠপোষকতায় জামদানি বুনন শিল্পের চরম উৎকর্ষ সাধিত হয় [১২, ১৪]। ঢাকাই জামদানি তখন বিশ্বব্যাপী খ্যাতি লাভ করে এবং রাজপরিবারের পছন্দের পোশাক ছিল [১০, ১৪]।
ব্রিটিশ আমল ও পতন: ১৮শ শতকের শেষ দিকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক নীতি এবং কম দামি মেশিনে তৈরি কাপড়ের আমদানির ফলে জামদানি শিল্প প্রায় ধ্বংসের মুখে পড়ে [৮, ৯]।
বর্তমান ঐতিহ্য: সময়ের সাথে সাথে এই শিল্প টিকে থাকে এবং বর্তমানে এটি বাংলাদেশের একটি ইউনেস্কো স্বীকৃত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য (Intangible Cultural Heritage) হিসেবে গণ্য হয় [৫, ৭]।
ঐতিহ্যগতভাবে সূক্ষ্ম সুতা দিয়ে তৈরি এই শাড়িতে জ্যামিতিক নকশাগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়, যা আজও বাংলার তাঁত শিল্পের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন [
১
১ মন্তব্য