Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ মার্চ, ২০২৬ ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ

টেকনাফ স্থলবন্দর বন্ধ ১৩ মাস

কক্সবাজারের নাফ নদীর তীরে যে বন্দরের কোলাহলে সরব থাকত সীমান্ত জনপদ, সেখানে এখন শুধুই নীরবতা। বন্দরে পণ্য খালাসের ব্যস্ততা যেমন নেই, তেমনি বন্দর জেটিতে নেই পণ্যবাহী জাহাজ আর ট্রাকের সারি। প্রায় ১৩ মাস ধরে কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কেবল মায়ানমারের বিদ্রোহীগোষ্ঠী আরাকান আর্মির উৎপাতের অজুহাত দেখিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অসহযোগিতায় এত দিন ধরে অচলাবস্থায় রয়েছে স্থলবন্দর।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, টেকনাফ স্থলবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় মায়ানমারে আটকা পড়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ৯০ লাখ ডলার। মায়ানমার-বাংলাদেশের সীমান্ত বাণিজ্যের চুক্তির আওতায় পণ্য আমদানির জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এলসি করে ব্যাংকের মাধ্যমে এ পরিমাণ ডলার পাঠিয়েছিলেন দেশটির ব্যবসায়ীদের কাছে। কিন্তু পণ্য আমদানি বন্ধ থাকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের পাঠানো বিপুল অঙ্কের এই ডলার আটকা পড়েছে। অন্যদিকে বন্দর বন্ধ হয়ে পড়ায় ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট হাজারো মানুষ হয়ে পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।

সরকারও হারাচ্ছে মাসে প্রায় ৫০ কোটি টাকার রাজস্ব। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৯৫ সালে মায়ানমার-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সীমান্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানির সুবিধার্থে টেকনাফের নাফ নদীর তীরে স্থলবন্দরটির কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল। সেই থেকে ধারাবাহিকভাবে দুই দেশের মধ্যে চলছিল আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে রাখাইন রাজ্যে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে দেশটির আরাকান আর্মি।

টানা সংঘাতের পর একই বছরের ৮ ডিসেম্বর রাখাইনের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয় তারা। সংঘাতের আগে রাখাইনের আকিয়াব বন্দর দিয়ে টেকনাফ স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হতো। নাফ নদীর ওপারে মায়ানমারের রাখাইনের (আরাকান) বিস্তীর্ণ এলাকা আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পর টেকনাফের স্থলবন্দরে নতুন জটিলতা তৈরি হয়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আমদানি বা রপ্তানির ক্ষেত্রে আরাকান আর্মির পক্ষ থেকে চাঁদা দাবি করা হতো। তবে সরকারি চুক্তির বাইরে কোনো পক্ষকে অর্থ প্রদান করে বাণিজ্য করতে রাজি নন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

তাঁদের মতে, এই চাঁদাসংক্রান্ত জটিলতাই বন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ থাকার অন্যতম প্রধান কারণ। আরাকান আর্মি মায়ানমারের আকিয়াব বন্দর থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরমুখী একে একে তিনটি পণ্যবাহী জাহাজ আটক করেছিল। সংঘাতের জেরে গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় ১৩ মাস ধরে আকিয়াবের সঙ্গে টেকনাফ স্থলবন্দরের বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার আরাকান আর্মির উৎপাতের অজুহাতে বন্ধ করেছিল স্থলবন্দরটি। উখিয়া-টেকনাফ সংসদীয় আসনের এমপি শাহজাহান চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘টেকনাফ স্থলবন্দর সচল করতে সরকার বদ্ধপরিকর। আমাদের প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে স্থাপিত স্থলবন্দর শিগগিরই যাতে সচল করা যায় সেটা নিয়ে আমি কাজ করছি। আমি আশাবাদী এই সংকটের সমাধান হয়ে যাবে।’ টেকনাফ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ওমর ফারুক সিআইপি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার একেবারেই আন্তরিক ছিল না স্থল বাণিজ্য নিয়ে। সরকার একটু চাইলেই স্থলবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকত না। অহেতুক আরাকান আর্মির অজুহাতে বন্দরও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের ব্যাবসায়িক লেনদেন রয়েছে মায়ানমারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। পণ্যের দরদাম সাব্যস্ত করে এখান থেকে পাঠানো হয় ডলার। মায়ানমার থেকে পণ্য পাঠানোর সম্পূর্ণ দায়িত্ব সেখানকার ব্যবসায়ীদের। তাঁরাই আরাকান আর্মির দায়দায়িত্ব নেবেন। চাঁদা দিতে হলে তাঁরাই দেবেন। এ রকমই কথাবার্তা হয়েছে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

টেকনাফ স্থলবন্দর বন্ধ ১৩ মাস

কক্সবাজারের নাফ নদীর তীরে যে বন্দরের কোলাহলে সরব থাকত সীমান্ত জনপদ, সেখানে এখন শুধুই নীরবতা। বন্দরে পণ্য খালাসের ব্যস্ততা যেমন নেই, তেমনি বন্দর জেটিতে নেই পণ্যবাহী জাহাজ আর ট্রাকের সারি। প্রায় ১৩ মাস ধরে কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কেবল মায়ানমারের বিদ্রোহীগোষ্ঠী আরাকান আর্মির উৎপাতের অজুহাত দেখিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অসহযোগিতায় এত দিন ধরে অচলাবস্থায় রয়েছে স্থলবন্দর।



সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, টেকনাফ স্থলবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় মায়ানমারে আটকা পড়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ৯০ লাখ ডলার। মায়ানমার-বাংলাদেশের সীমান্ত বাণিজ্যের চুক্তির আওতায় পণ্য আমদানির জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এলসি করে ব্যাংকের মাধ্যমে এ পরিমাণ ডলার পাঠিয়েছিলেন দেশটির ব্যবসায়ীদের কাছে। কিন্তু পণ্য আমদানি বন্ধ থাকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের পাঠানো বিপুল অঙ্কের এই ডলার আটকা পড়েছে। অন্যদিকে বন্দর বন্ধ হয়ে পড়ায় ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট হাজারো মানুষ হয়ে পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।



সরকারও হারাচ্ছে মাসে প্রায় ৫০ কোটি টাকার রাজস্ব। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৯৫ সালে মায়ানমার-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সীমান্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানির সুবিধার্থে টেকনাফের নাফ নদীর তীরে স্থলবন্দরটির কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল। সেই থেকে ধারাবাহিকভাবে দুই দেশের মধ্যে চলছিল আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে রাখাইন রাজ্যে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে দেশটির আরাকান আর্মি।


টানা সংঘাতের পর একই বছরের ৮ ডিসেম্বর রাখাইনের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয় তারা। সংঘাতের আগে রাখাইনের আকিয়াব বন্দর দিয়ে টেকনাফ স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হতো। নাফ নদীর ওপারে মায়ানমারের রাখাইনের (আরাকান) বিস্তীর্ণ এলাকা আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পর টেকনাফের স্থলবন্দরে নতুন জটিলতা তৈরি হয়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আমদানি বা রপ্তানির ক্ষেত্রে আরাকান আর্মির পক্ষ থেকে চাঁদা দাবি করা হতো। তবে সরকারি চুক্তির বাইরে কোনো পক্ষকে অর্থ প্রদান করে বাণিজ্য করতে রাজি নন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।


তাঁদের মতে, এই চাঁদাসংক্রান্ত জটিলতাই বন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ থাকার অন্যতম প্রধান কারণ। আরাকান আর্মি মায়ানমারের আকিয়াব বন্দর থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরমুখী একে একে তিনটি পণ্যবাহী জাহাজ আটক করেছিল। সংঘাতের জেরে গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় ১৩ মাস ধরে আকিয়াবের সঙ্গে টেকনাফ স্থলবন্দরের বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার আরাকান আর্মির উৎপাতের অজুহাতে বন্ধ করেছিল স্থলবন্দরটি। উখিয়া-টেকনাফ সংসদীয় আসনের এমপি শাহজাহান চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘টেকনাফ স্থলবন্দর সচল করতে সরকার বদ্ধপরিকর। আমাদের প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে স্থাপিত স্থলবন্দর শিগগিরই যাতে সচল করা যায় সেটা নিয়ে আমি কাজ করছি। আমি আশাবাদী এই সংকটের সমাধান হয়ে যাবে।’ টেকনাফ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ওমর ফারুক সিআইপি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার একেবারেই আন্তরিক ছিল না স্থল বাণিজ্য নিয়ে। সরকার একটু চাইলেই স্থলবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকত না। অহেতুক আরাকান আর্মির অজুহাতে বন্দরও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের ব্যাবসায়িক লেনদেন রয়েছে মায়ানমারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। পণ্যের দরদাম সাব্যস্ত করে এখান থেকে পাঠানো হয় ডলার। মায়ানমার থেকে পণ্য পাঠানোর সম্পূর্ণ দায়িত্ব সেখানকার ব্যবসায়ীদের। তাঁরাই আরাকান আর্মির দায়দায়িত্ব নেবেন। চাঁদা দিতে হলে তাঁরাই দেবেন। এ রকমই কথাবার্তা হয়েছে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

তিনি জানান, এর আগে পণ্যবাহী যে তিনটি জাহাজ আরাকান আর্মি আটক করেছিল সেগুলোও ফেরত এনেছেন সেখানকার ব্যবসায়ীরা। পণ্য আমদানির জন্য ৯০ লাখ ডলার বর্তমানে মায়ানমারের ব্যবসায়ীদের হাতে রয়েছে। ব্যবসা বন্ধ থাকায় একদিকে দেশের ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মায়ানমারের ব্যবসায়ীরা এখন বলছেন, তাঁরা আরাকান আর্মির বিষয়টি নিজেরা ম্যানেজ করে পণ্য পাঠাতে রাজি। কিন্তু স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এখনো পর্যন্ত আমদানি-রপ্তানিকারকদের কোনো গ্রিন সিগন্যাল না দেওয়ায় শুরু হচ্ছে না পুরো কার্যক্রম।


টেকনাফ স্থলবন্দর পরিচালনায় নিয়োজিত ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এখন একটি গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এসেছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন শিগগিরই অচলাবস্থার অবসান ঘটবে।


মন্তব্য করুন

ব্লগ