আলহামদুলিল্লাহ। বহুল প্রতীক্ষিত সাধনার এক অনন্য প্রতিফলন হিসেবে উপলক্ষে ঠাকুরগাঁও জেলার শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক পুরস্কার অর্জন আমার জীবনের এক স্মরণীয় মাইলফলক হয়ে থাকবে। দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ ও শিক্ষার্থীদের প্রতি গভীর ভালোবাসার যে পথচলা—আজ যেন তারই স্বীকৃতি পেলাম সম্মানিত জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট থেকে পুরস্কার গ্রহণের মাধ্যমে। মহান আল্লাহর নিকট অশেষ শুকরিয়া, তিনি আমার এই স্বপ্নপূরণ করেছেন।
এই গৌরবময় আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬ এর জেলা পর্যায়ের বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে। আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা এর সম্মানিত জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি), উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার), জেলা শিক্ষা অফিসার, ঠাকুরগাঁও এবং জেলা শিক্ষা অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও মর্যাদাপূর্ণ ও প্রাণবন্ত করে তোলে।
বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই ইশরাত ফারজানা মহোদয়ের প্রতি। তিনি জেলা প্রশাসক, ঠাকুরগাঁও হিসেবে অত্যন্ত প্রজ্ঞাপূর্ণ ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তাঁর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন, প্রযুক্তি ব্যবহারের গুরুত্ব, নৈতিক শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ গঠনে শিক্ষকের অগ্রণী ভূমিকার বিষয়গুলো বিশেষভাবে উঠে আসে। তিনি বলেন, একজন শ্রেণি শিক্ষক শুধু পাঠদানেই সীমাবদ্ধ নন; বরং তিনি একজন আদর্শ নির্মাতা, একজন স্বপ্নস্রষ্টা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পথপ্রদর্শক।
এই স্বীকৃতি কেবল আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি আমার বিদ্যালয়, সহকর্মীবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। প্রতিটি ক্লাসরুমে আমি চেষ্টা করেছি শিক্ষাকে আনন্দময়, অংশগ্রহণমূলক ও জীবনঘনিষ্ঠ করে তুলতে। পাঠ পরিকল্পনা, সহশিক্ষা কার্যক্রম, স্বাস্থ্য ও নৈতিক শিক্ষার চর্চা—সবকিছুর মধ্যেই ছিল একটি লক্ষ্য: শিক্ষার্থীদের সু-মানব হিসেবে গড়ে তোলা।
দীর্ঘদিন ধরে মনে একটি আশা ছিল—একদিন হয়তো আমার কাজের মূল্যায়ন হবে। আজ সেই আশা বাস্তবে রূপ নিয়েছে। তবে এই অর্জন আমাকে থামিয়ে দেবে না; বরং আরও দায়িত্বশীল করে তুলবে। ভবিষ্যতেও আমি শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ।
পরিশেষে আবারও মহান আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে কৃতজ্ঞতা জানাই সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের, যাঁদের দোয়া ও সহযোগিতা ছাড়া এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হতো না। এই সম্মান আমাকে নতুন উদ্যমে এগিয়ে চলার শক্তি জোগাবে—শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে, মানবিক ও আলোকিত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে।
১
১ মন্তব্য