সহকারী অধ্যাপক
০৩ মার্চ, ২০২৬ ০৬:১৮ অপরাহ্ণ
তিনিই সমুদ্রকে দু’ ধারায় প্রবাহিত করেছেন- একটি সুপেয় সুস্বাদু আরেকটি লবণাক্ত কটু, উভয়ের মাঝে টেনে দিয়েছেন এক আবরণ- এক অনতিক্রম্য বিভক্তি-প্রাচীর।
তিনিই সমুদ্রকে দু’ ধারায় প্রবাহিত করেছেন- একটি সুপেয় সুস্বাদু আরেকটি লবণাক্ত কটু, উভয়ের মাঝে টেনে দিয়েছেন এক আবরণ- এক অনতিক্রম্য বিভক্তি-প্রাচীর।
সূরাঃ আল-ফুরকান আয়াতঃ ৫৩ মাক্কী, সূরাঃ আর-রাহমান আয়াতঃ ১৯-২০,৫৫ মাদানী
৫৩ وَ هُوَ الَّذِیۡ مَرَجَ الۡبَحۡرَیۡنِ هٰذَا عَذۡبٌ فُرَاتٌ وَّ هٰذَا مِلۡحٌ اُجَاجٌ ۚ وَ جَعَلَ بَیۡنَهُمَا بَرۡزَخًا وَّ حِجۡرًا مَّحۡجُوۡرًا
আর তিনিই দু’টো সাগরকে একসাথে প্রবাহিত করেছেন। একটি সুপেয় সুস্বাদু, অপরটি লবণাক্ত ক্ষারবিশিষ্ট এবং তিনি এতদোভয়ের মাঝখানে একটি অন্তরায় ও একটি অনতিক্রম্য সীমানা স্থাপন করেছেন।
-আল-বায়ান
তিনিই সমুদ্রকে দু’ ধারায় প্রবাহিত করেছেন- একটি সুপেয় সুস্বাদু আরেকটি লবণাক্ত কটু, উভয়ের মাঝে টেনে দিয়েছেন এক আবরণ- এক অনতিক্রম্য বিভক্তি-প্রাচীর।
-তাইসিরুল
তিনিই দুই সমুদ্রকে মিলিতভাবে প্রবাহিত করেছেন; একটি মিষ্টি, সুপেয় এবং অপরটি লবণাক্ত, খর; উভয়ের মধ্যে রেখে দিয়েছেন এক অন্তরায়, এক অনতিক্রম্য ব্যবধান।
-মুজিবুর রহমান
And it is He who has released [simultaneously] the two seas, one fresh and sweet and one salty and bitter, and He placed between them a barrier and prohibiting partition.
-Sahih International
৫৩. আর তিনিই দুই সাগরকে সমান্তরালে প্রবাহিত করেছেন, একটি মিষ্ট, সুপেয় এবং অন্যটি লোনা, খর; আর তিনি উভয়ের মধ্যে রেখে দিয়েছেন এক অন্তরায়, এক অনতিক্রম্য ব্যবধান।(১)
(১) مرج শব্দের অর্থ স্বাধীন ছেড়ে দেয়া। عذب মিঠা পানিকে বলা হয়। فُرَاتٌ এর অর্থ সুপেয়, مِلْحٌ এর অর্থ লোনা এবং أُجَاجٌ এর অর্থ তিক্ত বিস্বাদ। আল্লাহ তা'আলা স্বীয় কৃপা ও অপার রহস্য দ্বারা পৃথিবীতে দুই প্রকার সাগর সৃষ্টি করেছেন। (এক) সর্ববৃহৎ যাকে মহাসাগর বলা হয়। গোটা পৃথিবী এর দ্বারা পরিবেষ্টিত। এর প্রায় এক-চতুর্থাংশ এ জলধির বাইরে উন্মুক্ত, যাতে সারা বিশ্বের মানব সমাজ বসবাস করে। এই সর্ববৃহৎ সাগরের পানি রহস্যবশতঃ তীব্ৰ লোনা ও বিস্বাদ। পৃথিবীর স্থলভাগে আকাশ থেকে বর্ষিত পানির ঝর্ণা, নদনদী, নহর ও বড় বড় সাগর আছে। এগুলোর পানি মিষ্ট ও সুপেয়। মানুষের নিজেদের তৃষ্ণা নিবারণে এবং দৈনন্দিন ব্যবহারে এরূপ পানিরই প্রয়োজন, যা আল্লাহ্ তা'আলা স্থলভাগে বিভিন্ন প্রকারে সরবরাহ করেছেন।
সমুদ্রে স্থলভাগের চাইতে অনেক বেশী সামুদ্রিক জন্তুজানোয়ার বসবাস করে। এগুলো সেখানেই মরে, সেখানেই পচে এবং সেখানেই মাটি হয়ে যায়। সমগ্ৰ পৃথিবীর পানি ও আবর্জনা অবশেষে সমুদ্রে পতিত হয়। যদি সমুদ্রের পানি মিষ্ট হত, তবে মিষ্ট পানি দ্রুত পচনশীল বিধায় দু’চার দিনেই পচে যেত। এই পানি পচে গেলে তার দুর্গন্ধে ভূপৃষ্ঠের অধিবাসীদের জীবনধারন দুরূহ হয়ে যেত। তাই আল্লাহ্ তা'আলা তাকে এত তীব্ৰ লোনা, তিক্ত ও তেজস্ক্রিয় করে দিয়েছেন যেন সারা বিশ্বের আবর্জনা তাতে পতিত হয়ে বিলীন হয়ে যায় এবং সেখানে বসবাসকারী যে সকল সৃষ্টজীব সেখানে মরে, তাও পচতে পারে। দেখুন: আদওয়াউল-বায়ান]
তাফসীরে জাকারিয়া
(৫৩) তিনিই দুটি সাগরকে প্রবাহিত করেছেন, একটির পানি মিষ্ট, সুপেয় এবং অপরটির পানি লোনা, ক্ষারবিশিষ্ট।[1] আর উভয়ের মধ্যে তিনি রেখে দিয়েছেন এক সীমারেখা, এক অনতিক্রম্য ব্যবধান। [2]
[1] মিষ্টি পানিকে فُرَات বলা হয়। এর মূল অর্থঃ কেটে দেওয়া, ভেঙ্গে দেওয়া। যেহেতু মিষ্টি পানি পিপাসাকে কেটে দেয় অর্থাৎ, দূর করে দেয়, সেহেতু তাকে ‘ফুরাত’ বলা হয়। আর أُجَاج অর্থ ক্ষারবিশিষ্ট।
[2] যা এক অপরের সাথে মিলিত হতে দেয় না। আবার কেউ কেউ حِجْرًا مَّحْجُوْرًا এর অর্থ করেছেন حَرَامًا مُّحَرَّمًا ওদের উপর হারাম করে দেওয়া হয়েছে যে, মিষ্টি পানি লবণাক্ত ও লবণাক্ত পানি মিষ্টি যেন না হয়। আবার কেউ কেউ مَرَجَ الْبَحْرَيْنِ এর অর্থ করেছেন خَلَقَ المَاءَين দুই পানি সৃষ্টি করেছেন; এক মিষ্টি ও একটি লবণাক্ত। মিষ্টি পানি ঐসব পানি, যা নদী, ঝরনা ও কূপের পানিরূপে আবাদীর মধ্যে প্রাপ্ত হয়, যা মানুষ নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করে। আর লবণাক্ত পানি ঐসব মহা সমুদ্রের পানি, যা পূর্বে পশ্চিমে বিস্তৃত। যার জন্য বলা হয় যে, পৃথিবীর চার ভাগের তিন ভাগ পানি ও এক ভাগ স্থল; যার উপর মানুষ ও জীবজন্তু বসবাস করছে। সমুদ্র স্থির, তবে তাতে জোয়ার-ভাটা হয় এবং ঢেউ-সংঘাত বাধে। সমুদ্রের পানিকে লবণাক্ত করার মধ্যে অনেক হিকমত রয়েছে। মিষ্টি পানি কোন জায়গায় বেশিক্ষণ স্থির থাকলে তা খারাপ হয়ে যায়। তার রঙ, গন্ধ ও সবাদে পরিবর্তন ঘটে। আর লবণাক্ত পানি খারাপ হয় না এবং তার রঙ, গন্ধ ও সবাদে পরিবর্তনও আসে না। যদি ঐ সব স্থির সমুদ্রের পানিও মিষ্টি হত, তাহলে তা দুর্গন্ধময় হয়ে যেত। আর যার কারণে মানুষ ও জীবজন্তুর পৃথিবীতে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়ত। তার উপর আবার তাতে মৃত জীবের দুর্গন্ধ। আল্লাহর হিকমত এই যে হাজার হাজার বছর ধরে এই সমস্ত সমুদ্র বিদ্যমান এবং তাতে হাজার হাজার জীব-জন্তু মরে গলে যায়। কিন্তু মহান আল্লাহ ওর মধ্যে লবণের এমন ভাগ রেখেছেন যে, যাতে পানির মধ্যে সামান্যতম দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় না। সমুদ্র হতে উত্থিত বাতাসও পরিষ্কার ও সবাস্থ্যকর এবং তার পানিও পবিত্র; এমনকি মৃত সামুদ্রিক প্রাণীও হালাল। যেমনটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
(মুআত্তা ইমাম মালিক, ইবনে মাজাহ, আবূ দাঊদ, তিরমিযী পবিত্রতা অধ্যায়, নাসাঈ পানির বর্ণনা পরিচ্ছেদ।)
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
: ৫৪ وَ هُوَ الَّذِیۡ خَلَقَ مِنَ الۡمَآءِ بَشَرًا فَجَعَلَهٗ نَسَبًا وَّ صِهۡرًا ؕ وَ كَانَ رَبُّكَ قَدِیۡرًا ﴿۵۴
আর তিনিই পানি থেকে মানুষ সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি তাকে বংশগত ও বৈবাহিক সম্পর্কযুক্ত করেছেন। আর তোমার রব হল প্রভূত ক্ষমতাবান।
-আল-বায়ান
তিনিই পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন মানুষ, অতঃপর মানুষকে করেছেন বংশ সম্পর্কীয় ও বিবাহ সম্পর্কীয়, তোমার প্রতিপালক সব কিছু করতে সক্ষম।
-তাইসিরুল
এবং তিনিই মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পানি হতে; অতঃপর তিনি তার বংশগত ও বৈবাহিক সম্বন্ধ স্থাপন করেছেন। তোমার রাব্ব সর্বশক্তিমান।
-মুজিবুর রহমান
And it is He who has created from water a human being and made him [a relative by] lineage and marriage. And ever is your Lord competent [concerning creation].
-Sahih International
৫৪. আর তিনিই মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পানি হতে; তারপর তিনি তাকে বংশগত ও বৈবাহিক সম্পর্কশীল করেছেন।(১) আর আপনার রব হলেন প্রভূত ক্ষমতাবান।
(১) পিতামাতার দিক থেকে যে সম্পর্ক ও আত্মীয়তা হয়, তাকে نسب বলা হয় এবং স্ত্রীর পক্ষ হতে যে আত্মীয়তা হয়, তাকে صهر বলা হয়। [আদওয়াউল বায়ান, বাগভী]
তাফসীরে জাকারিয়া
(৫৪) তিনিই মানুষকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন; অতঃপর তিনি মানবজাতির মধ্যে রক্তগত ও বৈবাহিক সন্ধি স্থাপন করেছেন। [1] তোমার প্রতিপালক সর্বশক্তিমান।
[1] نسب বলতে (রক্তগত) আত্মীয়তা যা মা-বাপের সঙ্গে সম্পর্কিত। আর صِهر বলতে (বৈবাহিক) আত্মীয়তা যা বিবাহের পর স্ত্রীর পক্ষ থেকে হয়, যাকে আমরা বৈবাহিক সম্বন্ধ বলে থাকি। এই দুই ধরনের আত্মীয়দের বিস্তারিত আলোচনা সূরা নিসার ২২-২৩নং আয়াতে করা হয়েছে। দুধ-সম্পর্কিত আত্মীয়তা হাদীসানুসারে বংশগত আত্মীয়তারই শামিল। যেমন, নবী (সাঃ) বলেছেন, يحرم من الرضاع ما يحرم من النسب (বুখারী ২৬৪৫ নং, মুসলিম ১০৭০ নং)
সূরাঃ আর-রাহমান আয়াতঃ ১৯-২০,৫৫ মাদানী
৫৫ : ১৯ مَرَجَ الۡبَحۡرَیۡنِ یَلۡتَقِیٰنِ
তিনি দুই সমুদ্রকে প্রবাহিত করেন, যারা পরস্পর মিলিত হয়।
-আল-বায়ান
দু’টি সমুদ্রকে তিনিই প্রবাহিত করেন যারা পরস্পর মিলিত হয়,
-তাইসিরুল
তিনি প্রবাহিত করেন দুই দরিয়া, যারা পরস্পর মিলিত হয়,
-মুজিবুর রহমান
He released the two seas, meeting [side by side];
-Sahih International
১৯. তিনি প্রবাহিত করেন দুই সমুদ্র যারা পরস্পর মিলিত হয়,
তাফসীরে জাকারিয়া
(১৯) তিনি প্রবাহিত করেন দুই দরিয়া যারা পরস্পর মিলিত হয়,
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!
২০ بَیۡنَهُمَا بَرۡزَخٌ لَّا یَبۡغِیٰنِ
উভয়ের মধ্যে রয়েছে এক আড়াল যা তারা অতিক্রম করতে পারে না।
-আল-বায়ান
(কিন্তু তা সত্ত্বেও) উভয়ের মাঝে আছে এক আড়াল যা তারা অতিক্রম করতে পারে না।
-তাইসিরুল
কিন্তু ওদের মধ্যে রয়েছে এক অন্তরাল যা ওরা অতিক্রম করতে পারেনা।
-মুজিবুর রহমান
Between them is a barrier [so] neither of them transgresses.
-Sahih International
২০. কিন্তু তাদের উভয়ের মধ্যে রয়েছে এক অন্তরাল যা তারা অতিক্রম করতে পারে না।(১)
(১) مرج এর আভিধানিক অর্থ স্বাধীন ও মুক্ত ছেড়ে দেয়া। بحرين বলে মিঠা ও লোনা দুই দরিয়া বুঝানো হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা পৃথিবীতে উভয় প্রকার দরিয়া সৃষ্টি করেছেন। কোন কোন স্থানে উভয় দরিয়া একত্রে মিলিত হয়ে যায়, যার নযীর পৃথিবীর বিভিন্ন ভূখণ্ডে পরিদৃষ্ট হয়। কিন্তু যে স্থানে মিঠা ও লোনা উভয় প্রকার দরিয়া পাশাপাশি প্রবাহিত হয়, সেখানে বেশ দূর পর্যন্ত উভয়ের পানি আলাদা ও স্বতন্ত্র থাকে। একদিকে থাকে মিঠা পানি এবং অপরদিকে লোনা পানি। কোথাও কোথাও এই মিঠা ও লোনা পানি উপরে-নিচেও প্রবাহিত হয়। পানি তরল ও সূক্ষ্ম পদার্থ হওয়া সত্বেও পরস্পরে মিশ্রিত হয় না। আল্লাহ তা'আলার এই অপার শক্তি প্ৰকাশ করার জন্যেই এখানে বলা হয়েছে যে, উভয় দরিয়া পরস্পরে মিলিত হয়; কিন্তু উভয়ের মাঝখানে আল্লাহর কুদরতের একটি অন্তরাল থাকে, যা দূর পর্যন্ত তাদেরকে মিশ্রিত হতে দেয় না”। [কুরতুবী; ইবন কাসীর]
তাফসীরে জাকারিয়া
(২০) (কিন্তু) ওদের মধ্যে রয়েছে এক অন্তরাল, যা ওরা অতিক্রম করতে পারে না। [1]
[1] مَرَجَ অর্থ, أَرْسَلَ প্রবাহিত করেন। এর বিস্তারিত আলোচনা সূরা ফুরক্বানের ৫৩নং আয়াতে উল্লিখিত হয়েছে। যার সার কথা হল, দুই সমুদ্র থেকে কেউ কেউ তাদের পৃথক পৃথক অস্তিত্বকে বুঝিয়েছেন। যেমন, মিষ্টি পানির সমুদ্র আছে যার দ্বারা কৃষিক্ষেত সেচন করা হয় এবং মানুষ তার পানি নিজেদের অন্যান্য প্রয়োজনেও ব্যবহার করে। দ্বিতীয় প্রকার সমুদ্রের পানি হল লবণাক্ত। তারও ভিন্ন কিছু উপকারিতা আছে। এরা উভয়ে আপোসে একে অপরের সাথে মিলে না। কেউ কেউ এর অর্থ বর্ণনা করেছেন, লোনা পানির সমুদ্রেই মিঠা পানিরও ঢেউ চলে এবং উভয় পানির ঢেউ একে অপরের সাথে মিশ্রিত হয় না। বরং একে অপর থেকে পৃথকই থাকে। এর একটি ধরন হল এই যে, মহান আল্লাহ লোনা পানির সমুদ্রেই কয়েক স্থানে মিঠা পানির তরঙ্গও প্রবাহিত করে রেখেছেন এবং তা লোনা পানি হতে পৃথক থাকে। দ্বিতীয় ধরন এমনও হতে পারে যে, উপরে লোনা পানি আছে এবং তার তলদেশে আছে মিঠা পানির ঝর্ণা। যেমন বাস্তবেই কোন কোন স্থানে এ রকম আছে। তৃতীয় ধরন হল, যে জায়গায় নদীর মিঠা পানি সমুদ্রে গিয়ে পড়ে, সেখানে বহু লোকের চাক্ষুষ প্রমাণ যে, উভয় পানিই কয়েক মাইল দূর পর্যন্ত এমনভাবে পাশাপাশি প্রবাহিত হয় যে, একদিকে নদীর মিঠা পানি এবং অন্য দিকে বিশাল সুপ্রসারিত সমুদ্রের লোনা পানি। এদের মাঝে যদিও কোন আড়াল নেই, তবুও তারা আপোসে একে অপরের সাথে মিলে না। উভয়ের মধ্যে সেই আড়াল আছে, যা আল্লাহ রেখেছেন। উভয়ে তা অতিক্রম করে না।
৫৫ : ৫০ فِیۡهِمَا عَیۡنٰنِ تَجۡرِیٰنِ
উভয়ের মধ্যে থাকবে দু’টি ঝর্ণাধারা যা প্রবাহিত হবে।
-আল-বায়ান
দু’বাগানেই আছে দু’টো করে প্রবহমান ঝর্ণা।
-তাইসিরুল
উভয় উদ্যানে রয়েছে প্রবাহমান দুই প্রস্রবণ;
-মুজিবুর রহমান
In both of them are two springs, flowing.
-Sahih International
৫০. উভয় উদ্যানে রয়েছে প্রবাহমান দুই প্রস্রবণ(১);
(১) প্রথমোক্ত দুই উদ্যানের দুই প্রস্রবণ সম্পর্কে تَجْرِيَانِ তথা বহমান বলা হয়েছে, শেষোক্ত দুই উদ্যানের প্রস্রবণ থেকে উত্তম, যাদের সম্পর্কে نَضَّاخَتَانِ তথা উত্তাল বলা হয়েছে। কেননা, প্রস্রবণ মাত্রই উত্তাল হয়ে থাকে। কিন্তু যে প্রস্রবণ সম্পর্কে বহমান বলা হয়েছে, তার মধ্যে উত্তাল হওয়া ছাড়াও দূর পর্যন্ত প্রবাহিত হওয়ার গুণটি অতিরিক্ত। এর দ্বারা বোঝা যায় যে, প্রথমোক্ত জান্নাত দুটি নৈকট্যবান মুমিনদের। পক্ষান্তরে শেষোক্ত দু'টি জান্নাত সাধারণ ঈমানদারদের। [কুরতুবী]
তাফসীরে জাকারিয়া
(৫০) উভয় (বাগানে) রয়েছে প্রবহমান দুই প্রস্রবণ। [1]
[1] একটির নাম হল ‘তাসনীম’ আর দ্বিতীয়টির নাম হল ‘সালসাবীল’।
সূরাঃ আন-নামাল আয়াতঃ ৬১ মাক্কী
أَمَّن جَعَلَ الْأَرْضَ قَرَارًا وَجَعَلَ خِلَالَهَا أَنْهَارًا وَجَعَلَ لَهَا رَوَاسِيَ وَجَعَلَ بَيْنَ الْبَحْرَيْنِ حَاجِزًا
বল তো কে পৃথিবীকে বাসোপযোগী করেছেন এবং তার মাঝে মাঝে নদ-নদী প্রবাহিত করেছেন এবং তাকে স্থিত রাখার জন্যে পর্বত স্থাপন করেছেন এবং দুই সমুদ্রের মাঝখানে অন্তরায় রেখেছেন। (সূরা নমল, আয়াত: ৬১)
৫
৫ মন্তব্য