সহকারী শিক্ষক
০২ মার্চ, ২০২৬ ০৮:০১ অপরাহ্ণ
ফুযাইল ইবন ‘ইয়ায (রহ.)-এর জীবনী অধ্যায়।
তিনি জন্মেছিলেন খোরাসান অঞ্চলে। কিন্তু যৌবনের শুরুতে তিনি ছিলেন এক ভয়ংকর ডাকাত। মরুভূমির পথে পথে কাফেলা লুট করা ছিল তাঁর পেশা। মানুষ তাঁর নাম শুনলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ত।
কিন্তু আল্লাহ যাকে হেদায়েত দিতে চান, তার জন্য একটি আয়াতই যথেষ্ট।
এক রাতে ফুযাইল (রহ.) একটি বাড়ির দেয়াল বেয়ে উঠছিলেন। উদ্দেশ্য—চুরি করা।
ঠিক তখন ঘরের ভেতর থেকে কেউ কুরআন তিলাওয়াত করছিল। তিনি স্পষ্ট শুনলেন
“أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنْ تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ”
“ঈমানদারদের জন্য কি এখনো সময় আসেনি, তাদের অন্তর আল্লাহর স্মরণে নরম হওয়ার?”
(সূরা হাদীদ ৫৭:১৬)
এই আয়াত যেন সরাসরি তাঁর হৃদয়ে আঘাত করল।
তিনি থেমে গেলেন।
কাঁপতে কাঁপতে বললেন—
“হে আল্লাহ! সময় তো হয়ে গেছে… এখনই সময়।”
সেই মুহূর্তেই তাঁর অন্তর ভেঙে গেল। তিনি দেয়াল থেকে নেমে এলেন। জীবনের সব পাপ তাঁর চোখের সামনে ভেসে উঠল।
সেই রাতেই তিনি এক নির্জন স্থানে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন। সারারাত আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে থাকলেন।
পরদিন তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন—
• ডাকাতি ছেড়ে দেবেন
• হারাম জীবন ত্যাগ করবেন
• আল্লাহর পথে ফিরে যাবেন
তিনি সবকিছু ছেড়ে মক্কার পথে রওনা হলেন।
মক্কায় পৌঁছে তিনি ইবাদত, জ্ঞান ও তাকওয়ার জীবনে প্রবেশ করেন। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন যুগের অন্যতম বড় আলেম ও আল্লাহভীরু ব্যক্তি।
মানুষ দূর দূরান্ত থেকে তাঁর নসিহত শুনতে আসত।
তিনি বলতেন—
“মানুষের ভয় করো না; আল্লাহকে ভয় করো। কারণ মানুষ তোমার রিযিক দেয় না, জীবনও দেয় না।”
আরও বলতেন—
“যখন মানুষ তোমাকে প্রশংসা করে খুশি হও এবং নিন্দা করলে কষ্ট পাও—তখন বুঝবে তোমার অন্তরে এখনো রিয়া (লোকদেখানো) আছে।”
ফুযাইল ইবন ‘ইয়ায (রহ.)-এর জীবন আমাদের শেখায়—
✅ অতীত যত অন্ধকারই হোক, তাওবার দরজা সবসময় খোলা
✅ কুরআনের একটি আয়াত জীবন বদলে দিতে পারে
✅ সত্যিকারের সম্মান আসে আল্লাহর আনুগত্যে
ডাকাত থেকে তিনি হয়ে উঠলেন আল্লাহর প্রিয় বান্দা—একজন মহান অলী।
সূত্র:
ইমাম আবু নু‘আইম আল-ইসফাহানী (রহ.), হিলয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া (Hilyat al-Awliya), ফুযাইল ইবন ‘ইয়ায (রহ.)-এর জীবনী অধ্যায়।
৫
৫ মন্তব্য