সিনিয়র শিক্ষক
০১ মার্চ, ২০২৬ ০৩:০৫ অপরাহ্ণ
দীর্ঘ সময় ধরে ইয়ারফোন ব্যবহার করছেন? কান বাঁচাতে মানতে হবে যেসব নিয়ম
ইয়ারফোন ছাড়া দিনযাপন যেন প্রায় অসম্ভব। ফোন আছে মানেই কানের এই যন্ত্রটিও আছে। এখন ইয়ারফোনের পর এসেছে ইয়ারপড, ইয়ারবাড। আরো ছোট, আরো প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে ব্লুটুথ দিয়ে সংযুক্ত করা যন্ত্রগুলো। কিন্তু এর থেকে কী কী বিপদ হতে পারে, তা নিয়ে অধিকাংশ মানুষই আর ভাবেন না।
তবে সাম্প্রতিক এক ঘটনা ইয়ারফোনের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনাকে বাড়িয়ে তুলেছে। তুরস্কের এক তরুণীর কানে থাকা ইয়ারবাড আচমকা বিস্ফোরিত হয়। আর সেই ঘটনার পর তার শ্রবণক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ইয়ারবাড নির্মাতা সংস্থা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। তবে ঠিক কী কারণে এমন হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত ভাবে জানা যায়নি।
এমন ঘটনা বিরল ঠিকই। কিন্তু এমন বিপদ যাতে এড়ানো যায় সে জন্য খানিক সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
ইয়ারফোন ব্যবহারে কোন বিষয় মাথায় রাখবেন
দীর্ঘক্ষণ ইয়ারফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। জানা দরকার, একটানা ইয়ারফোন কানে গুঁজে গান শুনলে বা কথা বললে মানুষের শ্রবণক্ষমতা নষ্ট হতে পারে । বিরতি নিলে কানও বিশ্রাম পাবে। অন্তর্কর্ণের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে না।অনেকেই না বুঝে খুব জোরে গান শোনেন। এতে কানের ভেতরে চাপ পড়ে। শ্রবণক্ষমতা কমে। চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো ৬০-৬০ নিয়ম মেনে চলা উচিত। ৬০ মিনিটের জন্য ৬০ ডেসিবেলে গান শুনুন, তারপর আওয়াজ একেবারে কমিয়ে ফেলুন।
ইয়ারফোন পরিষ্কার রাখাটাও খুব জরুরি। কারণ, কানের ময়লা, ঘাম, ধুলো—সব কিছু জমে ডিভাইসের ভেতরের অংশে সমস্যা তৈরি করতে পারে। এর ফলে ধীরে ধীরে ইয়ারফোন নষ্ট হয়ে গিয়ে বিস্ফোরণের মতো ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অনেকেই সারা রাত ইয়ারফোন চার্জে বসিয়ে রাখেন। এতে যন্ত্রটি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তা ছাড়া ব্যাটারির বিস্ফোরণ ঘটার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। কেউ সস্তা চার্জার ব্যবহার করেন, কেউ আবার ভেজা হাতে ইয়ারফোন ধরেন। এই অভ্যাসগুলো বিপদের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে।কান যখন অস্বস্তির সংকেত দেবে, তা উপেক্ষা করলে চলবে না। ইয়ারফোন ব্যবহারের সময়ে যদি কানে জ্বালা হয়, গরম লাগে, তাহলে সেটি বিপদের লক্ষণ হতে পারে। তৎক্ষণাৎ ব্যবহার বন্ধ করা উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।
৩
৫ মন্তব্য