Loading..

ব্লগ

রিসেট

০১ মার্চ, ২০২৬ ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ

বিজ্ঞান শক্তি দেয়, কিন্তু এর ভুল ব্যবহার পৃথিবীকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়…

বিজ্ঞান শক্তি দেয়, কিন্তু এর ভুল ব্যবহার পৃথিবীকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়… ইরান–USA–ইসরায়েল পরিস্থিতি তারই উদাহরণ। 


যাই হোক, চলুন আজ মিসাইল সম্পর্কে মানুষের না-জানা কিছু সাধারণ তথ্য জানার চেষ্টা করি.....মিসাইল-শুনলেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে গতি, আগুন আর শক্তি। কিন্তু এই শক্তির ভেতরে লুকিয়ে আছে চমৎকার কিছু রসায়ন, যা না জানলে মিসাইলের প্রকৃত শক্তিকে বোঝা অসম্ভব। আসলে মিসাইল কোনো জাদু নয়—এটা পুরোপুরি বিজ্ঞানের উপর দাঁড়িয়ে থাকা এক অসাধারণ প্রযুক্তি। এর প্রতিটি ধাপে রসায়ন তার নিজস্ব ভূমিকা পালন করে।


মিসাইলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো তার প্রোপেল্যান্ট, যা মিসাইলকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়। কঠিন জ্বালানিতে সাধারণত অ্যামোনিয়াম পারক্লোরেটের (NH₄ClO₄) মতো শক্তিশালী অক্সিডাইজার (জারক পদার্থ) থাকে, সাথে থাকে অ্যালুমিনিয়াম (NH4+) পাউডার—যা দহনকে করে আরও তীব্র। এই দুই উপাদান একসঙ্গে জ্বললে মুহূর্তের মধ্যে বিপুল তাপ ও গ্যাস তৈরি হয়, যা মিসাইলকে অবিশ্বাস্য গতিতে ছুঁড়ে দেয় সামনে। তরল জ্বালানিতে আবার ব্যবহৃত হয় তরল অক্সিজেন বা নাইট্রোজেন টেট্রোক্সাইডের (N2O4) মতো অক্সিডাইজার এবং বিশেষ ধরনের ফুয়েল। এগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও শক্তিশালী—শুধু বিশেষায়িত সুরক্ষিত ল্যাবে ব্যবহৃত হয়।


মিসাইল শুধু জ্বালানির ওপরই নির্ভর করে না। এর শরীর তৈরি হয় কার্বন ফাইবার, টাইটানিয়াম বা বিশেষ তাপ-প্রতিরোধী সিরামিক দিয়ে, যাতে উচ্চগতির ঘর্ষণেও এটি ভেঙে না পড়ে। এছাড়া সেন্সর ও গাইডেন্স সিস্টেমেও থাকে উন্নত ইলেক্ট্রনিক উপাদান, যেখানে ব্যবহৃত হয় ব্যাটারির বিশেষ ইলেক্ট্রোলাইট, হালকা ধাতু এবং তাপ-নিয়ন্ত্রণকারী কুল্যান্ট।


সব মিলিয়ে, মিসাইলের পেছনে কাজ করে রসায়নের এক বিস্ময়কর জগৎ—যেখানে প্রতিটি অণু, প্রতিটি প্রতিক্রিয়া নির্ভুলভাবে নিয়ন্ত্রিত। তাই মিসাইল শুধু শক্তির প্রতীক নয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এক চূড়ান্ত সাফল্য।



মন্তব্য করুন

ব্লগ