Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:৩৮ অপরাহ্ণ

মহুয়ার পালা (পল্লী সাহিত্য সংগ্রহ)

তৎকালীন অবিভক্ত বঙ্গের ময়মনসিংহে (বর্তমান নেত্রকোণা) ১৬৫০ সালে রচনা হয় মহুয়া পালা। দীনেশ চন্দ্র সেন মহুয়া পালাকে ২৪টি অধ্যায়ে বিভক্ত করেন। মৈনমনসিংহ গীতিকায় মহুয়া কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২৩ ভাষায় মুদ্রিত হয়। মহুয়া গাছের নাম ধরেই মহুয়া পালা।


মহুয়ার পালার রচয়িতা দ্বিজ কানাই। রসের দিক থেকে রোমান্টিক ট্র‍্যাজেডি ঘরানার কাব্য বলা যায় মহুয়া পালাকে। মহুয়া পালার চরিত্র - নদের চাঁদ, মহুয়া, হুমরা বেদে। এর রচনাকাল ধরা হয় ১৬৫০ সাল। এই পালায় মোট ৭৮৯টি ছত্র আছে। দীনেশচন্দ্র সেন মহুয়া পালাকে ২৪টি অধ্যায়ে বিভক্ত করেন।


নদের চাঁদের বসতভিটা সুসং দুর্গাপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্ব দিকে এবং ঝাঞ্জাইল বাজার থেকে তিন কিলোমিটার পূর্বে বাউরতলা গ্রামের পাশে। সুদর্শন পুরুষ নদের চাঁদ ছিলেন এক জমিদারের দেওয়ান। অপর পক্ষে রূপবতী মহুয়া বেদে সর্দার হুমরা বেদের পালিত কন্যা, যাকে শিশুকালে হুমরা বেদে নেত্রকোণার কাঞ্চনপুরে কোনো ব্রাহ্মণের ঘর থেকে ডাকাতি করে নিয়ে আসে। জানা যায়, বেদে মহুয়াও এক সভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে ছিলেন। বেদেরা ঘাটে ঘাটে নোঙ্গর ফেলত ও হাট বাজারে পাড়ায় সাপের খেলা দেখাত, দড়ির ওপর দিয়ে হেঁটে বাজিকরের খেলা দেখাত। বেদে মহুয়া যখন নদের চাঁদের গ্রামে সাপের খেলা দেখাতে আসেন তখন মহুয়ার রূপে মুগ্ধ হয়ে নদের চাঁদ তাকে প্রণয় নিবেদন করেন। মহুয়াও নদের চাঁদের প্রণয়ে সম্মতি জ্ঞাপন করেন। কিন্তু দুজনের প্রণয়ের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ায় হুমরা বেদে। এই বিপত্তির হাত থেকে নিজেদের প্রণয়কে বাঁচাতে নদের চাঁদ মহুয়াকে নিয়ে পালিয়ে যান। বেশ দুজনে মিলে স্বপ্নের সংসারকে বাস্তবায়িত করে জীবনযাপন করছিলেন। হুমরা বেদে দলবল নিয়ে তাঁদের পিছু ধাওয়া করে। অবশেষে তারা মহুয়া এবং নদের চাঁদকে ধরে ফেলে। হুমরা বেদে নদের চাঁদকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। সর্দার মহুয়ার হাতে বিষলক্ষা ছুরি দিয়ে বলে ‘‘যাও নদের চাঁদকে মেরে ফেল’’। বিষলক্ষা ছুরি নিয়ে মহুয়া নদের চাঁদের দিকে এগিয়ে যান। নদের চাঁদের সম্মুখে পৌঁছে বিষলক্ষা ছুরি দিয়ে তিনি তাঁর নিজের বক্ষ বিদীর্ণ করেন এবং মাটিতে ঢলে পড়েন। প্রণয় পিয়াসী নদের চাঁদ মহুয়ার এই আত্মত্যাগ সহ্য করতে না পেরে প্রেমের প্রতিদান স্বরূপ বিষলক্ষা ছুরি দিয়ে নিজ জীবন আত্মহূতি দেন। মহুয়া ও নদের চাঁদের এই আত্মত্যাগ চিরন্তন প্রেমকে মহিমান্বিত করেছে। আজও সেই প্রেমের অমর কহিনী লোক মুখে মুখে বিরাজমান। দীনেশ চন্দ্র সেন সম্পাদিত বইয়ের পালাটিতে অবশ্য মহুয়া আত্মহত্যার পর নদের চাঁদকে হুমরার লোকেরা হত্যা করার কথা কাব্যে পাওয়া যায়।


দীনেশচন্দ্র সেন মৈমনসিংহ গীতিকার প্রথম খণ্ডের ভূমিকায় লিখেছেন, “মহুয়ার প্রেম কী নির্ভীক, কী আনন্দপূর্ণ! শ্রাবণের শতধারার ন্যায় অশ্রু আসিতেছে, কিন্তু প্রেমের মুক্তাহার কণ্ঠে পরিয়া মহুয়া চিরজীবী, মৃত্যুকে বরণ করিয়া মৃত্যুঞ্জয়ী হইয়াছে।”

মন্তব্য করুন

ব্লগ