সহকারী শিক্ষক
২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:৩৮ অপরাহ্ণ
ধ্বনি সচেতনতা (একটি অংশ)
ধ্বনি সচেতনতা:
পড়তে শেখার প্রথম পদক্ষেপ
ধ্বনি হলো ভাষার ক্ষুদ্রতম শ্রুতিগ্রাহ্য রূপ। উচ্চারণগত সামান্য পার্থক্যের কারণে একটি শব্দের অর্থ পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে। যেমন—
কল ও কাল, টুটি ও ছুটি, পাতা ও ছাতা—উচ্চারণের তারতম্যের কারণে অর্থ ভিন্ন হয়ে যায়।
তাই পড়তে শেখার জন্য শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধ্বনি সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
ধ্বনি সচেতনতা কী?
ধ্বনি সচেতনতা বলতে বোঝায়—
শব্দের ভেতরের ধ্বনি শুনে চেনা, আলাদা করা, মিলানো, পরিবর্তন করা এবং বিশ্লেষণ করার সামর্থ্য।
সহজভাবে বললে, কান দিয়ে ধ্বনি শুনে মস্তিষ্কে তা চিনতে পারাই ধ্বনি সচেতনতা।
ধ্বনি সচেতনতার প্রধান দক্ষতাসমূহ
ধ্বনি সচেতনতার দক্ষতাগুলো ধাপে ধাপে বিকশিত হয়। বিশেষ করে প্রাক-প্রাথমিক, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিচে ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি দক্ষতা তুলে ধরা হলো—
১. ধ্বনি বা শব্দ চেনা
একই রকম ধ্বনি চিহ্নিত করা।
যেমন: বৌ বৌ, ম্যাঁও ম্যাঁও।
২. মিলযুক্ত শব্দ চিহ্নিত করা (ছন্দ মিল)
যেমন:
টুটি – ছুটি
পাতা – ছাতা
সকালে – কপালে
৩. একই ধ্বনিতে শুরু হওয়া শব্দ চেনা
যেমন:
কলম
কলা
কলস
(সবগুলো শব্দ ‘ক’ ধ্বনি দিয়ে শুরু)
৪. শব্দের প্রথম ধ্বনি চিহ্নিত করা
যেমন:
কলম → প্রথম ধ্বনি ক
ইলিশ → প্রথম ধ্বনি ই
৫. শব্দের ভেতরের ধ্বনি আলাদা করা
যেমন:
ঈদ → দুইটি ধ্বনি (ঈ + দ)
রস → র + স
৬. ধ্বনি মিলিয়ে শব্দ তৈরি করা
যেমন:
ক + ল + ম = কলম
৭. শব্দকে ধ্বনিতে বিভক্ত করা
যেমন:
ইলিশ → ই + লি + শ
তালগাছ → তা + ল + গা + ছ
কেন ধ্বনি সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ?
এটি পড়তে শেখার প্রথম ধাপ।
শুদ্ধ উচ্চারণে সহায়তা করে।
বানান শিখতে সাহায্য করে।
শব্দ গঠন ও বিশ্লেষণ দক্ষতা বাড়ায়।
ভবিষ্যতে সাবলীল পাঠ ও বোধগম্যতার ভিত্তি তৈরি করে।
৩
৩ মন্তব্য