শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানিয়ে শুরু করলাম আজকের টুকি-টাকি। লেখার শুরুতে সেই সকল শিক্ষকদের প্রতি বিশেষ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা রইল যে সকল শিক্ষক এ সপ্তাহের সেরা শিক্ষক হয়েছেন।
Operating System বা System Software সংক্ষেপে যেটিকে OS বলা হয়। আর আমরা যেটিকে চিনে থাকি Windows বলে। আজকে আলোচনা করতে চাই কেন এটি Windows বলে আমাদের কাছে বেশি পরিচিত। তবে সেটি জানার আগে এই Operating System বা System Software সংক্ষেপে যেটিকে OS বলা হয় সেটির ইতিহাসটি একটু জেনে নেওয়ার চেষ্টা করব।
Operating System-এর ইতিহাস।
১৯৫১ সালে জেনারেল মটর রিসার্চ ল্যাবরেটরি সর্বপ্রথম আই.বি.এম এর মেইনফ্রেম কম্পিউটারের জন্য Operating System উদ্ভাবন করে। পিসি (পারশোনাল কম্পিউটার)-তে Operating System চালু হয় ১৯৭৬ সাল থেকে। এরপর ধীরে ধীরে বিভিন্ন অপারেটিংসিস্টেম পিসি (পারশোনাল কম্পিউটার)-র জন্য উদ্ভাবিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে বর্তমানে সর্বাধিক প্রচলিত মাইক্রোসফ্ট কর্পোরেশনের Windows
চাহিদা ও ব্যবহারকারীদের মানের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন কম্পিউটারে বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়।
যেমনঃ
এম.এস.ডস (MS Dos)
পিসি ডস (PC Dos)
এম.এস.উইন্ডোজ (MS Windows 95/98/NT/ 2000/XP /7/8)
ইউনিক্স (Unix)
লিনাক্স (Linax)
ম্যাক ও এস (Mac OS)
সান সোলারিস (Sun Solaris)
ও এস-২ (OS/2 Warp)
এম.এস.ডস (MS Dos) ও পিসি ডস (PC Dos)
৭০ এর দশকে মাইক্রোসফট কর্পোরেশনের তৈরি এম.এস.ডস (MS Dos) এবং আই.বি.এম কোম্পানির তৈরি পিসি ডস (PC Dos) ছিল সর্বাধিক জনপ্রিয় Operating System ।
ডস (Dos) একটি বর্ণভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম ফলে এতে কী-বোর্ডের মাধ্যমে লিখে লিখে কাজ করতে হয়।
এটি সিরিয়াল প্রসেসিং Operating System। অর্থাৎ একসাথে একাধিক প্রোগ্রাম চালনা করা যায় না।
কেবলমাত্র একক ইউজার সমর্থন করে এবং একক প্রসেসর সমর্থন করে।
আর একটি বড় অসুবিধা হচ্ছে ডস কেবলমাত্র ৬৪০ কিলোবাইট বা ০.৬৪ মেগাবাইট র্যাম মেমরি সমর্থন করে।
এবং গ্রাফিক্স, মাল্টিমিডিয়া, এনিমেশন, ওয়েব ডিজাইন এসব নিয়ে কাজ করার সুবিধা কম।
ম্যাক ও এস (Mac OS)
এটি এ্যাপল কোম্পানির তৈরী মেকিন্টোশ কম্পিউটার পরিচালনাকারী Operating System। চিত্র ভিত্তিক Operating System হিসেবে ম্যাক ওএস প্রথমে বাজারে আসে এবং জনপ্রিয়তা লাভ করে।
ম্যাক ওএস এর গ্রাফিক্স ও রঙের ব্যবহার অত্যান্ত চমৎকার।
চিত্রভিত্তিক Operating System হওয়ায় এটি ব্যবহার করা খুব সহজ।
ম্যাক ওএস কেবল এ্যাপল কম্পিউটারে ব্যবহার করা যায়।
ইউনিক্স (Unix)
সর্বপ্রথম পুরাতন অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে Unix পরিচিত। বিগত শতাব্দীর সত্তর দশকের প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বেল ল্যাবরেটরিতে কিন টমসন Unix অপারেটিং সিস্টেম রচনা করেন। মূলত অগ্রসর গবেষণা ও উন্নয়ন কাজের জন্য Unix অপারেটিং সিস্টেম উদ্ভাবিত হয়। নেটওয়ার্ক সিস্টেম ব্যবহার করার জন্য প্রথম থেকেই Unix একটি শক্তিশালী ও কার্যকরী Operating System হিসেবে পরিচিত। Unix প্রায় সবধরণের কম্পিউটারেই চলে।
সুপার কম্পিউটার থেকে শুরু করে পিসি পর্যন্ত সব ধরনের কম্পিউটারেই Unix ব্যবহার করা যায়।
মাল্টিটাস্কিং এবং মাল্টিইউজার এ্যাপ্লিকেশনের জন্য Unix অপারেটিং সিস্টেম খুবই উপযোগী।
Unix একটি সিঙ্গেল সি.পি.ইউ এর সাথে একাধিক কী-বোর্ড এবং মনিটর সংযোগ করে অনেক ব্যবহারকারীকে একত্রে কাজ করার সুযোগ দেয়।
লিনাক্স (Linax)
Linux বিনামূল্যে পাওয়া যায় এমন একটি Operating System। ইউনিক্স অপারিটং সিস্টেম নিয়ে কাজ করার সময় ফিনল্যান্ডের যুবক টারভোল্ডাস Linax অপারেটিং সিস্টেমটির উদ্ভাবন করেন। যা ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিনামূল্যে বিতরন করা হয়। সম্প্রতি আমাদের দেশে দেশীয়ভাবে বাংলায় Linux ব্যবহারের পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়েছে।
Linux-এর কোন একক মালিক নেই। শত শত প্রোগামারের নিবেদিত প্রচেষ্টার ফল হিসেবে Linux আজ সুপ্রতিষ্ঠিত।
Linux-এর সোর্সকোড উন্মুক্ত বলে একজন দক্ষ কম্পিউটার প্রোগ্রামার এর সংশোধন এবং উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম যা অন্য কোন Operating System এ সম্ভব নয়।
Linux অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে সাধারন পিসি দিয়ে সার্ভার পিসির কাজ করা যায়।
এম.এস.উইন্ডোজ (MS Windows)
আশির দশকের মাঝামাঝি Microsoft Corporation চিত্রভিত্তিক Operating System তৈরির পরিকল্পনা করে এবং ১৯৮৫ সালে Windows 1.0 ভার্সন বাজারে ছাড়ে। পরবর্তীতে বাজারে আসে উইন্ডোজ এর নতুন ভার্সন Windows 3.0
১৯৯৫ সালের আগষ্ট মাসে আরও উন্নত হয়ে বাজারে আসে 32bit এর চিত্রভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম Windows 95, চমৎকার প্রাফিক্স, নেটওয়ার্কের বিবিধ সুযোগ সুবিধা ও ইন্টারনেট ব্যবহার সুবিধা থাকায় Windows 95 Operating System আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
পরবর্তীতে Windows 95 Operating System এর একটি উন্নত সংস্করণ হয়ে বাজারে আসে Windows 98, এতে Windows 95 এর সকল সুবিধার পাশাপাশি আরও কিছু নতুন বৈশিষ্ট্য তার সাথে যুক্ত হয়।
১৯৯৩ সালে মাইক্রোসফ্ট কর্পোরেশন Windows NT বাজারে ছাড়ে। NT কথাটির অর্থ হচ্ছে New Technology, কিন্তু এর সাইজ এত বড় ছিল এবং সেই সময় পারসনাল কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার এই Operating System ব্যবহারের উপযুক্ত ছিলনা। পরবর্তীতে একে সার্ভার ও ওয়ার্কস্টেশনে ব্যবহারের জন্য রুপান্তর করা হয়।
Windows 98 এর পর মাইক্রোসফ্ট কর্পোরেশন Windows 2000 Professional ও Millennium বা একই নামে দুইটি ভার্সন বের করে। এই ভার্সনটি স্বল্পকাল স্থায়ী হয় এবং এর পরই Widows XP বাজারে আসে।
New Technology ব্যবহার করে তৈরি করা Windows XP তে FAT 32 ও NTFS ফাইল সিস্টেম ব্যবহার করে। এতে নেটওয়ার্ক ও অনলাইনের মাধ্যমে আপগ্রেডের ব্যবস্থা আছে। Windows XP এর পর Vista নামের নতুন একটি Operating System বাজারে ছাড়ে মাইক্রোসফ্ট কর্পোরেশন।
Windows পরিবারের সর্বশেষ ভার্সন হিসেবে মাইক্রোসফ্ট কর্পোরেশনের Windows 8 বর্তমান বাজারে প্রচলিত তবে বর্তমানে সর্বাধিক বেশী ব্যবহৃত হচ্ছে Windows 7
Operating System বা System Software সংক্ষেপে যেটিকে OS বলা হয় এগুলোর মধ্যে বর্তমানে সর্বাধিক প্রচলিত এবং ব্যবহৃত OS হচ্ছে মাইক্রোসফ্ট কর্পোরেশনের Windows, আর তাই এটিকে আমরা Operating System না বলে সরাসরি Windows বলে থাকি।
তাই আমার এই “Windows এর টুকি-টাকি…..” তে আলোচনায় আমি তুলে ধরার চেষ্টা করব Windows 7 এর বিভিন্ন টুকি-টাকি…..।
ভুল-ত্রুটি মার্জনীয়, আবারও ফিরে আসবো অন্য কোন দিন পরবর্তী কিছু নিয়ে।
৭০
১৪৪ মন্তব্য